default-image

হরতাল-অবরোধের কারণে ব্যাংকগুলোতে লেনদেন কমে গেছে। গত ৬ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধের মধ্যে গতকাল রোববার থেকে শুরু হওয়া ৭২ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনে মতিঝিলের ব্যাংকগুলোতে লেনদেন সারতে আসা গ্রাহকের সংখ্যা ছিল খুবই কম।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত স্থানীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র পাঁচ-সাতজন গ্রাহক কাউন্টারে রয়েছেন। গ্রাহক না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কোনো চাঞ্চল্য ছিল না। তবে দুপুর ১২টার দিকে জনা বিশেষ গ্রাহককে কাউন্টারগুলোর সামনে দেখা যায়। সাধারণ সময়ে এসব কাউন্টারে লাইন দিয়ে গ্রাহকদের লেনদেন সারতে হয়।
গ্রাহকদের একজন শরিফুল ইসলাম বলেন, জরুরি টাকার প্রয়োজন থাকায় বড় ভাইয়ের একটি চেক ভাঙাতে এসেছেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রদীপ কুমার দত্ত প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের ১ হাজার ১৮২টি শাখা এখন অনলাইনে রয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা তাঁদের নিকটতম শাখা থেকেই অনলাইনে অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন। এতে গ্রাহকের উপস্থিতি কম হতে পারে। তবে লেনদেন মোটামুটি স্বাভাবিক।
দুপুর সাড়ে ১২টায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সামনে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত প্রিন্সিপাল শাখায় গিয়ে হাতে গোনা দু-একজন গ্রাহক দেখা গেল। পরে শাখার ব্যবস্থাপক ও ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শওকত ইসলাম জানান, সাধারণ সময়ের চেয়ে ব্যাংকের সার্বিক লেনদেন খানিকটা কমে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ, সরবরাহ কমে যাওয়ায় লেনদেন কমেছে জানান তিনি।
বেসরকারি পূবালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিচে প্রিন্সিপাল অফিসেও তেমন গ্রাহক চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিচে মতিঝিল অফিসেও গ্রাহকের উপস্থিতি তেমন নেই। সর্বত্রই গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা।
বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, তাঁদের নগদ লেনদেন ৫ শতাংশ কমে গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় শাখাগুলোর লেনদেন পরিস্থিতির গড় করে তিনি এ তথ্য দেন।
যোগাযোগ করা হলে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সভাপতি ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার প্রথম আলোকে বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক সময়ের মতো হচ্ছে না। এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ), পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর এসব খাতে দৈনন্দিন ঋণ বিতরণ ও আদায় কমে গেছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মুদিখানা বা দোকানগুলো প্রতিদিন বিক্রি করে ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করে। তাদের বেচাবিক্রি কমে যাওয়ায় তারা ঋণ পরিশোধ করছে না। সার্বিক ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে গেছে। ঋণ নিতে চাইছে না কেউ। ব্যবসাও হচ্ছে না। আবার ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা যায়, গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারি মাসে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ কমেছে। আর আমানত কমেছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকগুলো সুদ আয়কে হিসাবে নেয়। ফলে হিসাবটি কী দাঁড়াচ্ছে, তা বুঝতে আরও কয়েক দিন লাগবে জানান সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন