ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি নেই, বরং কিছুটা উদ্বৃত্ত হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় খেলাপি ঋণ কমে আসায় এ উদ্বৃত্ত হয়েছে।
সর্বশেষ প্রস্তুত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত মূলধন হয়েছে ৪ হাজার ৬৯ কোটি টাকা বা মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
তবে এ সময়েও ঘাটতিতে রয়েছে ছয়টি ব্যাংক। আগের প্রান্তিক শেষে আটটি ব্যাংকের ঘাটতির কারণে সামগ্রিক ব্যাংক খাতে ১ হাজার ৯৬ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।
যোগাযোগ করা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অন্য অনেক কাজের মধ্যেও ব্যাংকের মৌলভিত্তি অর্থাৎ পুঁজি শক্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়েছি। যে কারণে ছয় বছরে মূলধন বৃদ্ধি হয়েছে ২৪৯ শতাংশ।’
ব্যাংকসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্যাসেল কমিটির ব্যাসেল-২ সুপারিশ অনুসারে ব্যাংকগুলোকে বর্তমানে ন্যূনতম ৪০০ কোটি টাকা অথবা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ, এর মধ্যে যেটি বেশি সে হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংক তার মুনাফা থেকে এসব অর্থ সংরক্ষণ করে। এর আগে গত জুন শেষে সামগ্রিক ব্যাংক খাতে ৮৪৮ কোটি ও সেপ্টেম্বর শেষে ১ হাজার ৯৬ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।
গত বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের তুলনায় শেষ অর্থাৎ ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমে এসেছে। খেলাপি ঋণ কমলে ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও কমে আসে। তাতে আয় বাড়ে। আবার গত ডিসেম্বরে সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকে ৭১০ কোটি এবং বেসিক ব্যাংকে ৭৯০ কোটি টাকার মূলধন জোগান দিয়েছে। ফলে সামগ্রিক মূলধন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
এদিকে সামগ্রিক ব্যাংক খাতে মূলধন পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ছয়টি ব্যাংকে ঘাটতি রয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, বেসিক, বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন