বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখা গেছে, বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে আসবাবপত্র ও ফ্রিজ-টিভির মতো ইলেকট্রনিক পণ্যের ১৫টির মতো স্টল আছে, যার অধিকাংশই হলরুমে স্থান পেয়েছে। সাধারণত আসবাবপত্র ও ফ্রিজ-টিভির মতো ইলেকট্রনিক পণ্যের প্রদর্শনীর জন্য বেশি জায়গা প্রয়োজন হয়। কিন্তু এসব স্টলে আসবাবপত্র কিংবা ফ্রিজ-টিভির মতো পণ্য প্রদর্শনীর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। অন্যদিকে মেলার ভেন্যু ঢাকা থেকে বেশ দূরে হওয়ায় এখন পর্যন্ত এসব পণ্যের ক্রেতাও আশানুরূপ নয়। তাই বড় কোম্পানিগুলো বিক্রির চেয়ে পণ্যের অনলাইন প্রদর্শনী ও প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

মেলায় অংশ নেওয়া আসবাব কোম্পানি হাতিল ফার্নিচারের স্টল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে আমরা এ বছর অনেকগুলো নতুন ডিজাইনের আসবাব এনেছি। কিন্তু স্টলের আকার ছোট হওয়ায় সব ধরনের পণ্য প্রদর্শনীর জন্য রাখা যায়নি। এ ছাড়া সশরীর মেলা থেকে পণ্য কেনার মতো ক্রেতাও তুলনামূলকভাবে কম। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য এখন পণ্যের অনলাইন প্রচারণা করা।’
ক্রেতাদের মধ্যে যাঁরা আসবাব ও ইলেকট্রনিক পণ্যের স্টল ঘুরে দেখছেন, তাঁদের মধ্যে কেনার আগ্রহ তেমন দেখা যায়নি। তাঁদের ভাষ্য, এত দূর থেকে আসবাব বা ইলেকট্রনিক পণ্য নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এতে খরচ যেমন অনেক বেশি পড়বে, তেমনি ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে পণ্য পরিবহন করাও ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সে জন্য তাঁরা মেলা থেকে এসব পণ্য কেনায় বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে এসব যা কিছু বিক্রি হচ্ছে, আশপাশের মানুষেরাই তা কিনছেন।

মেলায় নাদিয়া ফার্নিচারের স্টল তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেলায় তো এসেছি বিক্রি করতে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, প্রচারণাই মূল কাজ হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ, মেলার কাছাকাছি এলাকার স্থানীয় লোকেরা আসবাবপত্রে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আবার ঢাকা থেকে এসে সরাসরি পণ্য কিনছেন না কেউ। তাই এখানে যেন অনলাইনে দেখে বাসার কাছাকাছি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ক্রেতারা কিনতে পারেন, সে জন্য আমরা প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’

ইলেকট্রনিকস পণ্যের স্টলগুলোতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। ক্রেতারা এসব স্টলে গিয়ে অনলাইনে পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানছেন। এ কাজে তাঁদের সহযোগিতা করছেন বিক্রয়কর্মীরা। মেলায় মিনিস্টারের স্টল তত্ত্বাবধায়ক এফ এম মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘দর্শনার্থী কম হলেও আমার বিবেচনায় মেলায় প্রকৃত ক্রেতার সংখ্যা আশানুরূপ। এত দূরে অবস্থিত মেলা থেকে ঢাকাবাসী কিনবেন না, এটাই স্বাভাবিক। তবে তাঁরা এখান থেকে দেখে নিয়ে নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। তাই এখানেই আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’ তবে মেলায় স্টলের জায়গা সংকট নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনিও।

এদিকে সুযোগ থাকলেও বড় কোম্পানিগুলো নিজেরাই বড় স্টল নেয়নি বলে জানান মেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। ইপিবি সচিব ইফতেখার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মেলার দুটি হল রুমে বড় দ্বিতল স্টল দেওয়ার সুযোগ নেই। বড় কোম্পানিগুলো যাতে আগারগাঁওয়ের মতো দ্বিতল স্টল দিতে পারে, সে জন্য হলরুমের বাইরে খোলা স্থানে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কোম্পানিগুলো নিলামের মাধ্যমে সেই সব স্টল বুঝেও নিয়েছিল। পরে তারা হঠাৎ হলরুমে স্টল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন স্থানে বিক্রি কম হবে—এমন আশঙ্কা থেকে অনেকে বড় স্টল দিতে চায়নি বলে জানান তিনি।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন