বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। আলোচনা করেছে সিইপিএর যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই)। ঢাকার কারওয়ান বাজারে বিএফটিআই কার্যালয়ে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জাফর উদ্দীন এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ।

অন্যদিকে সমীক্ষার জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে একই ধরনের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফরেন ট্রেড (আইআইএফটি)। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যসচিবকে প্রধান করে গঠিত ১০ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিতে বৈঠকের পরামর্শগুলো তুলে ধরা হবে। দুই দেশের আলাদা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর শুরু হবে দর-কষাকষি। ত্রুটি-বিচ্যুতিও সংশোধন করা হবে তখন। এরপর হবে চুক্তি। সব শেষ করে সিইপিএ চুক্তি হতে সময় লাগতে পারে আরও ছয় মাস।

গতকালের বৈঠকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ও বিএফটিআইয়ের পণ্য বাণিজ্যবিষয়ক পরামর্শক মাহতাব উদ্দিন। আর সূচনা বক্তব্য দেন যৌথ সমীক্ষায় নিয়োজিত প্রধান পরামর্শক সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমানসহ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন, চেম্বারের প্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব বলেছেন, চলমান বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, লেনদেনের ভারসাম্য ইত্যাদি উন্নয়ন সূচকের অগ্রগতি হয়েছে। তবে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।

বিএফটিআইর সিইও মো. জাফর উদ্দীন বলেন, সিইপিএ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেই সাহায্য করবে না, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করবে। বৈঠকে অংশ নেওয়া সরকারি-বেসরকারি খাতের সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার এ চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য বাধাগুলো দূর করবে।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোট সার্কের আট সদস্য দেশের ছয়টিতে বাংলাদেশ যা রপ্তানি করে, এক ভারতেই বাংলাদেশ রপ্তানি করে তার ছয় গুণ বেশি। আবার চীনের পর বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে ভারত থেকেই। মূলত স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের দিক থেকেই এই চুক্তির প্রস্তাব ছিল।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বৈঠক প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, দুই দেশ মিলিয়ে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এরপর দর-কষাকষি হবে। সব শেষে দুই দেশের সরকার চুক্তি করবে। এসব কাজ সেরে উঠতে কিছুটা সময় লেগে যাবে। তবে যেভাবে এগোচ্ছে তা সন্তোষজনক বলা যায়।
গত মার্চে বিশ্বব্যাংক ‘সমৃদ্ধির জন্য আন্তযোগাযোগ: দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাঞ্চলের সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা চালুর চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের মাত্র ১০ শতাংশ হয় ভারতের সঙ্গে। আর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের হয় মাত্র ১ শতাংশ।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হলে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে ১৮২ শতাংশ আর বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি বাড়বে ১২৬ শতাংশ। নিরবচ্ছিন্ন পরিবহনব্যবস্থা চালু হলে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে ২৯৭ শতাংশ, বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি বাড়বে ১৭২ শতাংশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারত সিইপিএ করেছে ১৯৯৮ সালে। ভারত এরপর সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২০০৫ সালে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ২০০৯ সালে, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ২০১০-১১ সালে ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে ২০১৫ সালে সিইপিএ করেছে।

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যচিত্র
১০ বছর আগের তুলনায় ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে ভারতে ৫১ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। মূলত ২০১১ সালে বাংলাদেশকে অস্ত্র ও মাদক বাদে সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হলে দেশটিতে রপ্তানি বাড়তে থাকে।
ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ এক রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসার পর থেকেই এ শুল্ক-সুবিধা কার্যকর হয়। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১২৪ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ১০৯ কোটি ডলারের পণ্য।

ভারত থেকে আমদানিও বাড়ছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে ভারত থেকে ৪৫৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশটি থেকে সেই আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬২ কোটি ডলার। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৭৬৪ কোটি ডলার।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধানও প্রায় একই জায়গায় আছে। ১০ বছর আগে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান ছিল ৪০৭ কোটি ডলারের। মাঝখানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যবধান ৭৭৫ কোটি ডলারে পৌঁছালেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৪৬৭ কোটি ডলারে। ভারত থেকে আমদানি বাড়লেও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্য ব্যবধান তেমন বাড়ছে না।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন