এ অবস্থায় রিজ়ার্ভ ব্যাংকের আগামী দুটি ঋণনীতিতে সুদের হার বৃদ্ধি কার্যত অবশ্যম্ভাবী বলেই মনে করছেন স্টেট ব্যাংকের অর্থনীতিবিদেরা। সম্প্রতি এর আগে একই সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন মূল্যায়ন সংস্থা ইক্রার মুখ্য অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার।

ভারতের ওয়াকিবহাল মহলের বড় অংশেরই ব্যাখ্যা, মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতির হার এতটা বাড়লেও পেট্রল-ডিজেলের দামের প্রভাব এখনো অনুভূত হয়নি; বরং এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যানে তা টের পাওয়া যাবে।

গত মাসে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির মূল কারণ গম, প্রোটিন (বিশেষ করে মুরগির মাংস), দুধ, পরিশোধিত তেল, আলু, মরিচ, জ্বালানি কাঠ ও রান্নার গ্যাসের দাম। খাদ্যপণ্যের দামের ওপরে চাপ আরও বাড়িয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নিত হওয়া। যেমন ইউক্রেন থেকে মুরগির খাবার আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। অনিবার্যভাবেই বেড়েছে মুরগির মাংসের দাম। মাংসের দামে তার প্রভাব পড়েছে। বদলাতে হচ্ছে সূর্যমুখী তেলের বাণিজ্যনীতি। প্রতিবেদনের দাবি, ২০২১ সালের অক্টোবর মাসের পর থেকে মূল্যস্ফীতির হিসাবের ক্ষেত্রে পেট্রল-ডিজ়েলের প্রভাব কমেছে, বেড়েছে কেরোসিন ও জ্বালানি কাঠের দাম। অদূর ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরও বাড়তে পারে, গ্রামাঞ্চলের জন্য যা মোটেও ভালো খবর নয়।

কৃষি খাতের কাঁচামালের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে চাষের খরচ ৮ থেকে ১০ শতাংশ বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। সে ক্ষেত্রে কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে, বাড়তে পারে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি হারে। সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতির যা গতি-প্রকৃতি, তাতে লাগাম টানতে জুন ও আগস্ট মাসের ঋণনীতিতে ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট করে সুদ বাড়াতে হতে পারে রিজার্ভ ব্যাংককে। আর পুরো অর্থবছরে তা বাড়তে পারে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট।

উল্লেখ্য, সারা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে এই পথে হাঁটছে—ফেডারেল রিজার্ভ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, সবাই নীতি সুদহার বাড়িয়েছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন