বরিস জনসনের অভিযোগ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়ার মনোভঙ্গি নিয়েছেন। তবে পশ্চিমা বিশ্বে যুদ্ধংদেহী মনোভাব থেকে কোনোভাবে পিছিয়ে আসতে নারাজ। জনসনের কথায়, পোল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশ কিয়েভে ট্যাংকসহ ভারী অস্ত্র দিলে যুক্তরাজ্য দরকার হলে তাদের সহায়তা করবে।
সম্প্রতি রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসে ইনস্টিটিউটের (রুসি) এক প্রতিবেদন বলা হয়, যেসব পথে রাশিয়ায় অস্ত্র পাচার হয়, ভারত তার মধ্যে অন্যতম। এ পরিপ্রেক্ষিতে জনসন এসব কথা বলেন।

রাশিয়ার প্রযুক্তি রপ্তানি নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে জনসন বলেন, ‘রাশিয়া যেন প্রযুক্তি ঢুকতে না পারে তা নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। এই প্রক্রিয়ায় ফাঁক রাখা হবে না...আবার অন্য পথেও আমরা রাশিয়ায় প্রযুক্তি ঢুকতে দেব না।’

অথচ রুসির প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগে সফরের মধ্যেই বরিস জনসন বলেছিলেন, ভারতে ব্রিটিশ অস্ত্র রপ্তানির পথ সুগম করা হবে। এমনকি এও বলেছিলেন, এ সফরের প্রাপ্তি হলো, ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরও নিবিড় হওয়া।

রুসির ২৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো, মস্কো এখন তার জেট বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র কর্মক্ষম রাখতে এখন যন্ত্রাংশ চোরাচালানের ওপর নির্ভর করবে। এসব যন্ত্রাংশের দ্বৈত ব্যবহার হয় বলে জানা গেছে, অর্থাৎ সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজেই।

প্রতিবেদন ভাষ্য, ‘চেক রিপাবলিক, সার্বিয়া, আর্মেনিয়া, তুরস্ক, ভারত ও চীনের এমন অনেক কোম্পানিকে রাশিয়াকে যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।
এদিকে ভারত সফরে বরিস জনসন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, বরিস জনসন ভারতকে রাশিয়ার বিষয়ে অবস্থান নিতে চাপাচাপি করেননি।

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত ভোট থেকে ভারত নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা রাশিয়া থেকে তেল কিনছে। রাশিয়াও ভারতকে মূল্যছাড় দিচ্ছে। তেলের এ উচ্চ মূল্যের সময়ে ভারতও রাশিয়ার থেকে ছাড়কৃত মূল্যে তেল কিনে লাভবান হচ্ছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন