default-image

ভালোবাসার আবেদন চিরন্তন। তবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সেই ভালোবাসার প্রকাশটা যেন একটু বেশিই। বিশেষ এই দিনে প্রিয় মানুষকে ভালো লাগার অনুভূতি জানাতে অনেকেই কেনেন ফুল, কার্ড, চকলেটসহ নানা উপহার। তাই এ সময়টায় বেশ জমে ওঠে ফুল ও উপহারসামগ্রীর ব্যবসা।
তবে দেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থায় ভালোবাসা দিবসকেন্দ্রিক এ ব্যবসাগুলো এবার অন্য বছরের মতো জমেনি। ব্যবসায়ীরা পণ্যের সম্ভার সাজিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতার ভিড় না থাকায় বেচাবিক্রি অনেক কম দোকানগুলোতে। রাজধানীর শাহবাগ, হাতিরপুল, বেইলি রোড, ধানমন্ডি, পল্টন এলাকা ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে।
প্রতিবছর পয়লা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবসের অপেক্ষায় থাকেন শাহবাগের ফুলের ব্যবসায়ীরা। উৎসবমুখর এই সময়টাতে বেড়ে যায় ফুলের কেনাবেচা। শাহবাগ ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বাবুল প্রসাদ জানান, গত বছর পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে সারা দেশে ৮-৯ কোটি টাকার ফুলবাণিজ্য হয়েছিল। কিন্তু এ বছর তা কমে সাড়ে ৩-৪ কোটিতে নেমে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির হিসাবে শাহবাগে খুচরা ফুল বিক্রির দোকান রয়েছে ৫০টির মতো। গত বুধবার শাহবাগের এসব খুচরা বিক্রেতার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবরোধ-হরতালে প্রতিনিয়ত তাঁরা লোকসান গুনছেন। স্বাভাবিক সময়ে গড়ে প্রতিটি দোকানের দৈনিক বিক্রি ছিল যেখানে ৮-১০ হাজার টাকা, বর্তমানে তা কমে ৩-৪ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
ফুল ব্যবসায়ী লিটন মিয়া বলেন, ‘সচরাচর যে দামে ফুল বিক্রি করতাম, এখন তার চাইতে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোনোমতে থাকা-খাওয়ার টাকা ওঠানোর চেষ্টা করছি।’
ব্যবসায়ীরা জানান, বিক্রি না-ও হতে পারে, এমন আশঙ্কায় তাঁরা দোকানে ফুলই আনছেন কম পরিমাণে। কিন্তু সেগুলোও অবিক্রীত থাকছে। পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে যদি ব্যবসা না হয়, তাহলে তাঁদের অনেকেরই পুঁজি হারাতে হবে।
বাবুল প্রসাদ আরও বলেন, ফুলের উৎপাদন হয়েছে যথেষ্ট। কিন্তু পরিবহন খরচ বেশি এবং ঠিকমতো পরিবহন না হওয়ায় অনেক টাকার ফুল নষ্ট হচ্ছে। যে ফুল উৎপাদন হয়েছে, তার ৬০ শতাংশ এবার অবিক্রীত থেকে যেতে পারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অবরোধ-হরতালের কারণে পয়লা ফাল্গুন এবং ভালোবাসা দিবসেও আগের তুলনায় ব্যবসা কম হবে। তাই ভবিষ্যৎ নিয়েই অনিশ্চয়তায় আছেন তাঁরা।
কার্ড ও উপহার: ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে এখনো ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ কার্ড। হাতিরপুলে হল-মার্কের একটি বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন আকার ও দামের কার্ডের পসরা। এখানে আরও আছে লাল হৃদয় বা রেড হার্ট, বিভিন্ন আকারের পুতুল, উপহার ব্যাগ ও বাক্স, শোপিস, পারফিউম।
বিক্রয়কেন্দ্রটির স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসের ব্যবসা মূলত তিন দিনের। ১৮ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি, এত খারাপ অবস্থায় কখনো পড়তে হয়নি। ৬ লাখ টাকার পণ্য দোকানে তুলেছি। গত বছর এই সময়ে প্রতিদিন ২ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হতো। এ বছর ১ লাখও হবে বলে মনে হয় না।’
কিছুটা ভিন্ন কথা শোনা গেল হাতিরপুলের আর্চিস গ্যালারির স্বত্বাধিকারী শরিফুদ্দিন ইকবালের কথায়। তিনি বলেন, ‘হরতাল-অবরোধ তো আর ভালোবাসার প্রকাশকে আটকে রাখতে পারে না। তাই ব্যবসা খারাপ এটা বলব না, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আরও ভালো হতো।’
ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ৫০ রকমের বেশি উপহারের পসরা বিক্রি হচ্ছে আর্চিসের এই বিক্রয়কেন্দ্রে। এসবের মধ্যে আছে কার্ড, হাতঘড়ি, পাথরের বিভিন্ন দুল ও গয়না, সুগন্ধি মোমবাতি, মানিব্যাগ, টাই, মগ, লাভ চকলেট, উপহার ব্যাগ প্রভৃতি। আর্চিসের কার্ডের দাম পড়বে ১০০–১২০০ টাকা। কার্ডের পাশাপাশি ভালো বিক্রি হওয়া বিভিন্ন আকারের সুগন্ধি মোমবাতির দাম ১০০–৬০০ টাকা।
পল্টন এলাকার বিভিন্ন দোকান ঘুরে ভালোবাসা দিবসের কার্ডের দেখাও মিলেছে। আজাদ প্রোডাক্টস, আইডিয়াল প্রোডাক্টস, রয়েল কার্ডস ইত্যাদি দোকানে ভালোবাসা দিবসের কার্ড বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম ৭০ থেকে ৩০০ টাকা।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন