সেমিনারে বক্তারা বলেন, ভেনামি চিংড়ি চাষের উপযোগী খামার তৈরি ও বিদেশ থেকে পোনা আমদানি করতে বেশ খরচের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এক বছরের জন্য অনুমতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দিচ্ছে না ব্যাংক। ফলে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ মেয়াদে ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর খুলনার সাবেক উপপরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার। তিনি বলেন, একসময় দেশে ২ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ির চাষ হতো। কিন্তু বিভিন্ন কারণে চিংড়ি চাষের জমি অনেক কমে গেছে। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি কমেছে রপ্তানিও। কাঁচামাল সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে আশার আলো হয়ে উঠতে পারে ভেনামি চিংড়ি। কম জায়গায় কম খরচে ভেনামি চিংড়ির অধিক উৎপাদন হয়। এ কারণে চিংড়ি উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনে বেশি আগ্রহী।

সেমিনারে জানানো হয়, সারা বিশ্বে চিংড়ির চাহিদা বেড়েছে ১০ শতাংশ। বিশ্বে চাহিদা বাড়লেও সেখানে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। কারণ, চিংড়ির উৎপাদন কম। এশিয়ার মধ্যে ১৫টি দেশ চিংড়ি উৎপাদন করে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ ছাড়া অন্য ১৪টি দেশ ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন করছে। অন্যান্য দেশ যেখানে ২০ বছর আগে ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন শুরু করেছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করতে যাচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, ২০২০ সালে চিংড়ির বিশ্ববাজার ছিল ১৮ দশমিক ৩০ বিলিয়ন (১ বিলিয়নে ১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের। ২০২৬ সালে এ বাজারের আকার দাঁড়াবে ২৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বর্তমানে চিংড়ির বাজারের ৭৭ শতাংশই ভেনামির দখলে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাদিকুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব কুমার পাল, বিএফএফইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম খলিলুল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফএফইএর সহসভাপতি এস হুমায়ুন কবির।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন