default-image
>
  • বিশ্ববাজারে দাম সহনীয়।
  • আমদানি বেশি।
  • রোজার পণ্যের দাম অস্থিতিশীল হওয়ার শঙ্কা নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারে এবারে রোজার পণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে কম। ব্যবসায়ীরা যেন প্রতিযোগিতা করেই আমদানি করছেন। ফলে সর্বশেষ মার্চ মাসে রোজার পণ্য খ্যাত ছোলা, খেজুর, ভোজ্যতেল ও চিনির আমদানি ২৪ শতাংশ থেকে ২৭৬ শতাংশ বেড়েছে। সব মিলিয়ে ভোক্তাদের জন্য সুখবর থাকছে বলা যায়।

ব্যবসায়ীরাই বলছেন, বিশ্ববাজারে দাম সহনীয় থাকায় ও আমদানি বেশি হওয়ায় এবার রোজার পণ্যের দাম অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা নেই।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৭ মে থেকে রোজা শুরু হতে পারে। অর্থাৎ রোজার এখনো দেড় মাস বাকি। সে পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিনই জাহাজ ও কনটেইনার থেকে খালাস হবে রোজার পণ্য।

ব্যাপক মজুতের পরিস্থিতিতে এরই মধ্যে আমদানি পণ্যের বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এসব পণ্যের বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে।

রোজায় যেসব পণ্য বেশি চলে, তার মধ্যে সয়াবিন, পামতেল, ছোলা ও খেজুর-এই চার পণ্য কার্যত দেশে উৎপাদিত হয় না। তাই আমদানির মাধ্যমেই মেটাতে হয় এসব পণ্যের চাহিদা। চিনি উৎপাদিত হয় বছরে ৬৮ থেকে ৭০ হাজার টন, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। একইভাবে মসুর ও মটর ডালও চাহিদার চেয়ে অনেক কম উৎপাদিত হয়। সে জন্য তিনটি পণ্যই আমদানি করতে হয়। এসব পণ্যের দাম কত হবে, তা নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা এবং চাহিদার তুলনায় মজুদের ওপর।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এবারে মটর ও মসুর ডাল ছাড়া সব পণ্যের আমদানি ২৪ থেকে ২৭৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। মটর ও মসুর ডালের আমদানি কম হলেও দেশে মজুত আছে এবং শিগগিরই বিপুল পরিমাণে বন্দরে এসে যাবে।

জানতে চাইলে আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানান, গত বছর আমদানি বেশি হওয়ায় প্রচুর পরিমাণ মটর ও মসুর ডাল অবিক্রীত রয়ে গেছে। নতুন আমদানির মটর ও মসুর ডালও আসছে। ফলে রমজানে কোনো সংকট হবে না। তিনি আরও বলেন, মটর ডাল ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে রোজার অন্যান্য পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কম। তাই নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।

ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী রোজার মাসে ছোলার চাহিদা ৮০ হাজার টন। তবে এ বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রথম তিন মাসে ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার টন। এর মধ্যে গত মাসেই শুধু ৭২ হাজার ৬৫৪ টন ছোলা আমদানি হয়েছে। গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার টনপ্রতি দর ছিল ৮০০ মার্কিন ডলার, যা এখন মানভেদে ৬০০ থেকে ৬৫০ ডলার। অস্ট্রেলিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ছোলা আনা হচ্ছে বলে জানান আমদানিকারকেরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে রমজানে খেজুরের চাহিদা থাকে ১৫-১৬ হাজার টন। গত তিন মাসে এটি আমদানি হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬৮ টন, যা ২০১৭ সালের একই সময়ের সাড়ে ১২ হাজার টনের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।

জানা গেছে, গত বছর খেজুরের ব্যবসায় ভালো মুনাফা হওয়ায় এবারে ব্যবসায়ীদের অনেকেই বেশি পরিমাণে এটি আমদানি করেছেন। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, আলজেরিয়া, মিসর, তিউনিসিয়া থেকে খেজুর আমদানি হচ্ছে বেশি। পাইকারি বাজারে এখন সবচেয়ে কম দামি খেজুর কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। সবচেয়ে দামি ইরানের মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকায়।

চট্টগ্রামের আছদগঞ্জের আমদানিকারক ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ফারুক আহমেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এখন সারা বছরই খেজুরের চাহিদা থাকে। তবে আমদানি বাড়ায় রমজানে খেজুরের দামও স্থিতিশীল থাকবে।

চিনির বাজারেও স্থিতিশীলতা আশা করা যায়। কারণ, বেসরকারি কারখানার পাশাপাশি সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনও (বিএসএফআইসি) গত তিন মাসে ৭৭ হাজার ২৯২ টন প্রস্তুত চিনি আমদানি করেছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অপরিশোধিত চিনি এনে তা পরিশোধন করে। বন্দরের তথ্যে দেখা যায়, গত তিন মাসে কাঁচা চিনি খালাস হয়েছে ৭ লাখ ৭২ হাজার টন, যা ২০১৭ সালের একই সময়ে ছিল ৫ লাখ ৭৬ হাজার টন।

ভোজ্যতেলের আমদানিও ২৪ শতাংশ বেড়েছে। এ বছরের প্রথম তিন মাসে ভোজ্যতেলের মধ্যে পাম ও সয়াবিন আমদানি হয় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন। গত বছর একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৫ লাখ ২১ হাজার টন।

এবার রোজায় বন্দর দিয়ে আমদানি কমেছে শুধু মসুর ডাল ও মটর ডাল। এ বছরের প্রথম তিন মাসে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টন, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার টন। জানুয়ারি-মার্চে মটর ডাল আমদানি হয়েছে ৪২ হাজার টন, যা গত বছর একই সময়ে ছিল প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টন।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন