গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিউমার্কেট, হাতিরপুল, পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার ও কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হয়েছে ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকায়। এলাচি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি মানভেদে ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। দারুচিনির দাম ছিল কেজিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি লবঙ্গ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এ ছাড়া গোলমরিচ ৫৫০ থেকে ৭০০, আলুবোখারা ৩৫০ থেকে ৫০০ ও জায়ফল ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। গত এক মাসে এসব পণ্যের দামে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ঘি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। দোকানিরা এক কেজি বাটারের দাম রেখেছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। কাজুবাদাম প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৯০০, কাঠবাদাম ৬৫০ থেকে ৭০০, পেস্তাবাদাম ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ও কিশমিশ মানভেদে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাজারে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে না ক্রেতাদের। মাংস রান্নার অন্যতম অনুষঙ্গ এ দুটি পণ্যের দাম বাড়েনি বাজারে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, দেশি রসুন ৬০ ও আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমেছে।

নিউমার্কেট ডি ব্লকের মেসার্স হৃদয় বানিয়াতি স্টোরের মো. হৃদয় প্রথম আলোকে বলেন, মসলার বাজার বলতে গেলে একেবারে স্থিতিশীল। এর মধ্যে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে, কিন্তু তার কোনো প্রভাব মসলার দামে পড়েনি।

এবার পাইকারিতে মসলার দাম না বেড়ে বরং কিছুটা কমেছে। চাহিদা কম থাকায় ব্যবসায়ীরা কম দামে মসলা বিক্রি করেছেন।
এনায়েত উল্লাহ, সভাপতি, গরমমসলা ব্যবসায়ী সমিতি

নিউমার্কেট বাজারে কথা হয় আজিমপুর থেকে মসলা কিনতে আসা আসমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দাম মোটামুটি কমই। এবার গরু আকারে ছোট, তাই মসলা কমই কিনলাম। প্রতিবার ৩০০ গ্রামের মতো এলাচি কিনতাম। এবার সেখানে ২০০ গ্রাম কিনলাম।’

মসলার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় সামাজিক ও করপোরেট অনুষ্ঠান এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয়।

ঈদুল আজহায়ও ঘরে ঘরে ব্যবহার বাড়ে। তবে এবার নানা কারণে মসলার বিক্রিবাট্টা কম হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানান, বছরজুড়ে দেশে ৮ থেকে ১০ ধরনের মসলার চাহিদা বেশি থাকে। এর মধ্যে এলাচি, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, জায়ফল, জয়ত্রী, মৌরি ও আলুবোখারা উল্লেখযোগ্য। এসব মসলা পুরোপুরি আমদানিনির্ভর।

বাংলাদেশ পাইকারি গরমমসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে। তাই এবার পাইকারিতে মসলার দাম না বেড়ে বরং কিছুটা কমেছে। খুচরা বাজারও স্থিতিশীল, তবে বেচাকেনা কম হয়েছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় ব্যবসায়ীরা কম দামে মসলা বিক্রি করেছেন।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন