আইনকানুন-নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত থাকেন বহিরাগতরা। অভিযোগ পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শক দল গিয়ে হাজির হয় সেখানে। গত রোববার হাতেনাতে তার প্রমাণও মেলে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাই গত সোমবার ১৫ দিনের সময় দিয়ে আইনি জবাব চাওয়া হয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে। পৃথক দুটি চিঠি দেওয়া হয়েছে ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি)। এতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা উল্লেখ করে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
সূত্র জানায়, রোববার নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগ থেকে একটি পরিদর্শক দল গিয়ে হাজির হয় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায়। ব্যাংকের পর্ষদের ২৩৪তম সভায় পরিদর্শক দল উপস্থিত হতেই সাতজন বহিরাগত দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের দলটি তাঁদের নাম সংগ্রহ করে। তাঁরা হলেন আর এ হাওলাদার, সহিদ রেজা, নাসির চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম মামুন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, জালাল হোসেন খান ও এম এ খান বেলাল। তাঁরা কেউ ব্যাংকের পরিচালক না হলেও পর্ষদের সভায় নিয়মিত উপস্থিত থাকেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭ ধারায় কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানাতে বলেছে। পর্ষদকে দেওয়া এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছে ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম আমানুল্লার কাছে। আর পর্ষদের সভায় বহিরাগতের উপস্থিতির বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে না জানানোর দায়ে এমডি এম আহসানুল হকের কাছে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বহিরাগতরা উপস্থিত থাকছেন—এমন অভিযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বেশ কিছুদিন ধরেই আসছিল। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সম্মানীর চেয়েও কোনো কোনো ব্যাংকে বেশি অর্থ পরিচালকেরা নিচ্ছেন—এমন তথ্যও রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। এসব বিষয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও এমডিদের সতর্ক করে। কিন্তু তাতেও নিয়মনীতি উপেক্ষিত থাকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কেন্টাইল ব্যাংকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে বলেছে, উল্লিখিত ব্যক্তিরা পর্ষদের সভার কার্যক্রমে নিয়মিত থাকেন। ব্যাংক পরিচালনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করে থাকেন। এ ধরনের কাজ আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমানতকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৪৭ ধারার আওতায় কেন পর্ষদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। একইভাবে এমডিকে দেওয়া চিঠিতে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন