২০২১ সালের মে মাস থেকেই শ্রীলঙ্কায় আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসী আয় আসা কমতে থাকে। মূলত টাকা ছাপানো বৃদ্ধি এবং অগ্রহণযোগ্য বিনিময় হারের কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ইকোনমি নেক্সট সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে।

বিদেশি মুদ্রার সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কা থেকে অন্য দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আমদানিকারকদের বিল পরিশোধ করতে বা অন্য দেশে ডলার পাঠাতে হলে মানুষকে এখন প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে কালোবাজারে ডলারের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে।

তামিলদের সঙ্গে দীর্ঘ ৩০ বছরের গৃহযুদ্ধের পর শ্রীলঙ্কা সরকার পরিবর্তনশীল বিনিময় হারের নীতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু দেশটির রপ্তানিকারকেরা নিজ স্বার্থে মুদ্রার বিনিময় হার কম রাখার চাপ দিয়েছেন। তাঁদের কারণে দেশটির সরকার নীতিতে স্থির থাকতে পারেনি।

অর্থনীতিবিদেরা বলেন, মন্দ মুদ্রা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। ধরা যাক, পাশাপাশি দুটি দেশ—যার একটিতে আছে মন্দ মুদ্রা ও অন্যটিতে উত্তম মুদ্রা। প্রথম দেশটিতে সরকার অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে কিংবা ঘোষণা দিয়ে কৃত্রিমভাবে নিজের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করে রেখেছে। এর ফলে সেই দেশে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কম হবে এবং একই মানের পণ্যের দাম পাশের দেশের তুলনায় বেশি মনে হবে। এতে সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। শ্রীলঙ্কায় এখন ঠিক তা–ই হচ্ছে।

বিদেশি মুদ্রার জন্য ভিসা

এদিকে চরম অর্থসংকটের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সে দেশে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখলে অথবা বাড়ি কিনলে দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের অনুমতি পাবেন বিদেশিরা।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় ন্যূনতম এক লাখ মার্কিন ডলার (৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা প্রায়) জামানত রাখা হলে গোল্ডেন প্যারাডাইস ভিসা প্রোগ্রামের আওতায় বিদেশিরা সেখানে ১০ বছর বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন। তবে শর্ত হলো তাঁরা যত দিন শ্রীলঙ্কায় থাকবেন, তত দিন ন্যূনতম ওই অর্থ স্থানীয় কোনো ব্যাংকে জমা রাখতে হবে।

এদিন শ্রীলঙ্কা সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি আরেকটি ভিসার অনুমোদন দিয়েছে। দেশটিতে অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে ন্যূনতম ৭৫ হাজার ডলার (৬৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা প্রায়) খরচ করলে পাঁচ বছরের ভিসা পাবেন বিদেশিরা।

লঙ্কান গণমাধ্যমমন্ত্রী নালাকা গোদাহেওয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, শ্রীলঙ্কা যে ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে এ কর্মসূচি সহায়ক হবে।
করোনাভাইরাস মহামারিতে পর্যটনশিল্প বন্ধ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া থেকে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকট গুরুতর আকার ধারণ করে। বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে জ্বালানি আমদানি কমে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশটি।

পরিস্থিতির এত অবনতি হয়েছিল যে দিনে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে তাদের। তেলের দোকানের সামনে বাড়তে শুরু করে মানুষের লাইন। হাসপাতালগুলোতেও দেখা দেয় জরুরি ওষুধের ঘাটতি।

ভয়াবহ এ সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রবাসীদের কাছে অনুদান চেয়েছে লঙ্কান সরকার। বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাঁচাতে বিদেশি ঋণের কিস্তি দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে তারা। তবে আশার কথা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে শ্রীলঙ্কার আলোচনা সফল হয়েছে। আইএমএফ শিগগিরই দক্ষিণ এশিয়ার এই সুন্দর দ্বীপ দেশকে আর্থিক সহায়তা দেবে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন