তবে প্রশ্ন উঠেছে মাসিক ১০০ টাকা ধোলাই ভাতা নিয়ে। এবার দেখা যাক, এই সময়ে লন্ড্রিতে পোশাক ধোলাই করতে দিলে কেমন খরচ হয়। রাজধানীর হজ ক্যাম্প এলাকার রেখা প্রসিদ্ধ ড্রাই–ওয়াশ অ্যান্ড লন্ড্রির স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন জানান, তাঁরা এখন একটি শার্ট বা প্যান্ট ধুতে ৪০ টাকা করে নেন। পুলওভার বা জ্যাকেটে রাখেন ১০০ টাকা, আর ব্লেজার ধোলাইয়ে ৫০০ টাকা। শহরের অন্যান্য সাধারণ এলাকার লন্ড্রিগুলোতেও কাপড়চোপড় ধোলাইয়ে কমবেশি এ রকমই খরচ পড়ে। অভিজাত এলাকার লন্ড্রিতে একটি প্যান্ট বা শার্ট ধোলাই করতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা লাগে।

রেখা প্রসিদ্ধ লন্ড্রির হিসাবটি বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ইউনিফর্মের প্যান্ট-শার্ট টানা এক সপ্তাহ ব্যবহারের পর লন্ড্রিতে ধোলাই করলে মাসে অন্তত ৩২০ টাকা খরচ হবে। বছরে প্যান্ট-শার্ট ধোলাইয়ে খরচ হবে ৩ হাজার ৮৪০ টাকা। দুটি ব্লেজার বছরে একবার ধোলাই করলেও ৫০০ টাকা করে এক হাজার টাকা খরচ পড়বে। আর দুটি পুলওভার ১০০ টাকা করে ২০০ টাকা খরচ হবে। সব মিলিয়ে ইউনিফর্ম ধোলাই করতে একেকজনের খরচ হবে ৫ হাজার ৪০ টাকা। অথচ পোশাক ধোলাইয়ের জন্য বছরে মিলবে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা। বাকি টাকা নিজের পকেট থেকেই দিতে হবে, যা বিশেষ করে সেপাই–গাড়িচালক ও কর্মচারীদের জন্য কঠিন।

ধোলাই ভাতা প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়েছে। এটি বাড়ানো হলে ভালো। তবে শুল্ক ও ভ্যাট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দ্রুত ইউনিফর্ম চালু করা হোক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কাস্টমস কর্মকর্তারা ইউনিফর্ম পরেন।
মজিবুর রহমান, সদস্যসচিব, বাকাএভ

এ ছাড়া রাজধানী বা শহর এলাকার গৃহকর্মী তথা ছুটা বুয়ারা কাজভিত্তিক টাকা নেন। সে ক্ষেত্রে ঢাকা শহরের একজন ছুটা বুয়া সপ্তাহে দুই দিন বাসাবাড়ির কাপড়চোপড় ধোয়ার জন্য মাসে কমপক্ষে ৭০০–৮০০ টাকা নেন। এর ওপর রয়েছে জামাকাপড় ইস্তিরি করার খরচ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এক্সিকিউটিভ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাকাএভ) সদস্যসচিব মজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধোলাই ভাতা প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়েছে। এটি বাড়ানো হলে ভালো। তবে শুল্ক ও ভ্যাট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দ্রুত ইউনিফর্ম চালু করা হোক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কাস্টমস কর্মকর্তারা ইউনিফর্ম পরেন।’

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেন, পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর পোশাক ধোলাই ভাতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পোশাকে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

জানা গেছে, কাস্টমস ও ভ্যাট কর্মকর্তাদের প্যান্ট হবে গাঢ় জলপাই রঙের। আর শার্ট হবে হালকা জলপাই রঙের। এ ছাড়া টুপি, টাই, রেইন কোট, মোজা, রিবন, বাঁশি, ব্যাজ, পদকসহ যাবতীয় সবকিছুই থাকবে।

কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোশাকসহ ইউনিফর্মের অন্য আনুষঙ্গিক সামগ্রী বানানোর জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ১৬ কোটি ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পোশাকের মান, রং, ডিজাইন ইত্যাদি অভিন্ন রাখার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে পোশাক সরবরাহ করা হবে। কোনো কর্মচারী-কর্মকর্তাকে নগদ অর্থ দেওয়া হবে না।

সেপাই থেকে কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পোশাক তৈরি করতে জনপ্রতি ১১ হাজার ৫০০ থেকে ১৬ হাজার ২০০ টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া আনুষ্ঠানিক পোশাকে জনপ্রতি খরচ হবে ৪ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৯০০ টাকা। এ ছাড়া গাড়িচালকদের পোশাকে খরচ হবে ৯ হাজার ৩২০ টাকা।

এবার দেখা যাক, কোন পোশাকে কেমন খরচ হবে। একটি গ্রীষ্মকালীন শার্টে ৮০০ টাকা ও শীতকালীন শার্টে ১ হাজার টাকা, আর প্যান্টে ১ হাজার টাকা খরচ হবে। ব্লেজারের দাম ৬ হাজার টাকা, পুলওভার ১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তিন জোড়া জুতা দেওয়া হবে। জোড়াপ্রতি জুতার দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা।

প্রত্যেককে বছরে চার জোড়া মোজা দেওয়া হবে। এক জোড়া মোজার জন্য বরাদ্দ ১০০ টাকা, যা বর্তমান বাজারদর থেকে একটু বেশি। আর ৩০০ টাকার টাই পরবেন সবাই। বর্ষায় নিজেকে সুরক্ষা দিতে বছরে একটি রেইন কোটও পাবেন তাঁরা। সেটির দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা। বাঁশির দাম ১০০ টাকা।

বর্তমানে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পর্যন্ত পদবির কর্মকর্তারা সাদা পোশাক পরেন। কয়েক বছর আগে কমিশনার পর্যন্ত পদবির কর্মকর্তাদের পোশাক পরিধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৯ সালে এ নিয়ে বিধিমালা জারি করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২১–২২ অর্থবছর থেকে জলপাই রঙের নতুন পোশাক চালু হতে যাচ্ছে।