default-image

কোরবানির ঈদের পর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বেচাবিক্রি কম থাকে। সে কারণে তিন-চার বছর ধরে এই সময়ে ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে মূল্যছাড় দেওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়। প্রথম দিকে আড়ং ও অঞ্জনসের মতো প্রতিষ্ঠান মূল্যছাড় দিলেও পরে অনেক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়। ডিসেম্বরে শীতের উপকরণ বিক্রয়কেন্দ্র আসা পর্যন্ত এই মূল্যছাড় অব্যাহত থাকে। এর মূল কারণ হচ্ছে, অফ সিজনে বিক্রিতে সমন্বয় ও পোশাকের স্টক খালি করা। তবে চলতি বছর করোনার কারণে আগের চেয়ে বড় আকারে মূল্যছাড় দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

করোনা মহামারির কারণে পয়লা বৈশাখে বিক্রিই হয়নি। রোজায় বিক্রি ছিল খুবই নগণ্য। কোরবানির ঈদেও গতবারের চেয়ে কম বিক্রি হয়েছে। তাতে সব প্রতিষ্ঠানই নগদ টাকার সংকটের মধ্যে পড়েছে। অন্যদিকে দোকানভাড়া পরিশোধ ও সরবরাহব্যবস্থা ঠিক রাখতে সবাই হিমশিম খাচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাদের উদ্যোক্তারা ব্যাকফুটে আছেন। সে কারণেই বড় মূল্যছাড়ের দিকে গেছেন অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

আবার তাঁদের দেখাদেখি কিছু প্রতিষ্ঠান মূল্যছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা মনে করছে, মূল্যছাড় না দিলে পণ্যের বিক্রি বাড়বে না।

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ক্রেতারা ঘর থেকে বের হননি। তবে ইদানীং মানুষ বাইরে আসতে শুরু করেছে। তাদের কেনাকাটায় উদ্বুদ্ধ করতে মূল্যছাড় প্রণোদনা হিসেবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে মূল্যছাড়ের কারণে বেচাবিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। নভেম্বরের পর বোঝা যাবে, কতটা উন্নতি হলো। নতুন করে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে বিক্রি কতটা ধরে রাখা যাবে, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

বিজ্ঞাপন

মহামারির কারণে এপ্রিলে বেচাবিক্রি হয়নি। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে দোকানপাট খোলার অনুমতি দেওয়ার পর টুকটাক বিক্রি শুরু হয়। অবশ্য গত চার মাসে বড় দুটি উৎসব গেছে। বেচাবিক্রি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বর্তমানে গতবারের চেয়ে কম হলেও ৮০ শতাংশ বেচাবিক্রি হচ্ছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের বিক্রি যে ভালো যাচ্ছে, তা বলা যাবে না।
করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। আমাদের উদ্যোক্তারা এখনো কেউ সেই প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ পাননি। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরঋণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী মাসে হয়তো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ পেয়ে যেতে পারে।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ ফ্যাশন উদ্যোক্তা সমিতি (এফইএবি)

মন্তব্য পড়ুন 0