বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে বাজারের অর্থ সরবরাহের ওপর বিশেষ নজর রাখতে হবে। উৎপাদন না বাড়িয়ে শুধু বাজারে অর্থ সরবরাহ বাড়ানো হলে তাতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এমন অভিমত বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পালের।
ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) শীতকালীন অর্থনৈতিক গবেষণা সম্মেলনের এক অধিবেশনের আলোচনায় গতকাল রোববার বিরূপাক্ষ এ অভিমত তুলে ধরেন। রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএসের ইআরজি কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল চতুর্থ বার্ষিক শীতকালীন সম্মেলন। অ্যাসোসিয়েশন অব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্টাডিজের সঙ্গে যৌথভাবে এবারের দিনব্যাপী সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।
এ সম্মেলনে অর্থনীতির বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস আর ওসমানী, ইআরজির নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদ জহিরসহ খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদদের পাশাপাশি অংশ নেন শেহজাদ এম আরিফিন, কাজী শাহরিয়ার, উর্মি খান, আসাদ করিম খান প্রিয়, আবু সঞ্চয়, শ্যামল চৌধুরীর মতো দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত একদল তরুণ অর্থনীতিবিদ।
প্রসঙ্গ মূল্যস্ফীতি: সম্মেলনের একটি পর্বে ভারত ও বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির বিভিন্ন দিক ও পদ্ধতি নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন বিরূপাক্ষ পাল। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। বিরূপাক্ষ পাল সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ হাসান জামানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
বিরূপাক্ষ পাল বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে অর্থ সরবরাহ ব্যবস্থাটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মতোই কাজ করে।
বিরূপাক্ষ পাল জানান, ১৯৮০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে অর্থ সরবরাহের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশে তা ছিল ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ সময়ে ভারতে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৮ শতাংশের কাছাকাছি আর বাংলাদেশে তা ছিল ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।
আলোচনা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান এ অর্থনীতিবিদ মূল্যস্ফীতি ও বাজারে অর্থ সরবরাহ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের কাছে নিজের অভিমত তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাজারে অর্থ সরবরাহ করলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা মূল্যস্ফীতি বাড়ায় না। অর্থ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ বাড়ানো হলে তাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ছাড়া জাতীয় প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থ সরবরাহও বাড়ানো যায়। উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অর্থ না ঢাললে মানুষ কাজ করবে না। অর্থ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো গেলে তা প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।’
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করা হলে তাতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির ফলে যদি কর্মক্ষমতা বাড়ে তাতে মূল্যস্ফীতি খুব বেশি বাড়বে না। তবে এ বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গবেষণা করছে বলেও তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন