default-image

আবদুর রহমান একজন অবসরভোগী সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। নিজের সারা জীবনের কষ্টের টাকায় বাসাবো এলাকায় একটি পাঁচতলা বাড়ি করেছেন। নিজেই ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। চলতি বছরের শুরুতেই বার্ধক্যজনিত রোগে তিনি মারা গেছেন। রেখে গেছেন স্ত্রী ও তাঁর দুই ছেলে। বড় ছেলে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। আরেক ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন।

বাসাবোর বাড়িতে আটটি ফ্ল্যাট। এর মধ্যে একটিতে আবদুর রহমান সাহেবের বড় ছেলে তাঁর মা ও পরিবার নিয়ে বাস করেন। বাকি সাতটি ফ্ল্যাট থেকে প্রতি মাসে বেশ ভালো অঙ্কের টাকা বাড়িভাড়া পাওয়া যায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে আবদুর রহমান সাহেব প্রতিবছর রিটার্ন দিয়ে নিয়মিত কর দিয়ে আসছিলেন। তিনি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন নিয়মিত করদাতা। এখন প্রশ্ন হলো তাঁর মৃত্যুর পর এখন কী হবে? উত্তরটা একটু নিষ্ঠুর। আবদুর রহমান সাহেবের পক্ষে তাঁর সম্পদ থেকে আয়ের ওপর এখন উত্তরাধিকারীদের কর দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
কোনো করদাতা মারা গেলে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে করযোগ্য আয় হলে কর দিতে হবে। তাঁর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে মনোনীত একজন তাঁর পক্ষে রিটার্ন দিয়ে কর দেবেন। সম্পদ ভাগ-বাঁটোয়ারা না হওয়া পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির নামেই কর দিতে হবে।

এবার দেখা যাক, এনবিআর মৃত করদাতার সম্পদ থেকে আয়ের ওপর কীভাবে কর আদায় করবে। প্রথমেই মৃত করদাতার একজন উত্তরাধিকারীকে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করবেন কর কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট উপ–কর কমিশনার নোটিশ করে তা ওই উত্তরাধিকারকে জানাবেন। পরে ওই উত্তরাধিকারী প্রতিবছর ওই মৃত করদাতার পক্ষে রিটার্ন জমা দিয়ে নির্ধারিত কর পরিশোধ করবেন।

এখানে বলা প্রয়োজন, মৃত ব্যক্তির নামে থাকা সম্পদ বা ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুধু করযোগ্য আয় থাকলেই রিটার্ন দিয়ে কর দিতে হবে। করযোগ্য আয় না থাকলে রিটার্ন দিতে হবে না। যত দিন পর্যন্ত ওই সম্পদ তাঁর উত্তরাধিকারীদের নামে ভাগ-বাঁটোয়ারা না হবে, তত দিন মনোনীত প্রতিনিধি ওই মৃত করদাতার পক্ষে কর দিয়ে যাবেন। কোনো কারণে কর না দিলে কিংবা আয়কর অধ্যাদেশ শর্তসমূহ পরিপালন না করা হলে ওই মনোনীত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।

মন্তব্য পড়ুন 0