বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল সোমবার প্রজ্ঞাপনে জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী জুলাই থেকে নতুন ও পুরোনো সব আমানত ও ঋণে নতুন সুদহার কার্যকর হবে। তবে আগে বেশি সুদে নেওয়া আমানত মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর নতুন করে রাখা হলে, তখন নতুন সুদহার কার্যকর হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের জালিয়াতির কারণে আর্থিক খাতের চারটি প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খারাপ অবস্থায় আছে। সে জন্য তারা বেশি সুদে টাকা ধার করছে এবং সেই টাকা আবার বেশি সুদে ঋণ দিচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ভালো প্রতিষ্ঠানও ঋণের বিপরীতে বেশি সুদ নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তা ৩০ শতাংশও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাই সুদহার বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদহার নির্ধারণের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার পরই তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে।
এ নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও আইআইডিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, 'অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন এই সুদহার কার্যকর করা কঠিন হবে। যদি ব্যাংকের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি সুদে আমানত সংগ্রহের সুযোগ দিত, তাহলে সুবিধা হতো। সুদহার কার্যকরে দুই মাস সময় আছে। আমরা সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলব। এরপর তা কার্যকরে সমস্যা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হবে।'

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত ও ঋণের সুদের হার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিছু কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজারের বিদ্যমান সুদহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় না রেখে তুলনামূলক বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করায় অযৌক্তিকভাবে তাদের তহবিল ব্যয় বাড়ছে। ফলে তাদের গ্রাহককে বেশি সুদে ঋণ দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার বাড়ছে এবং উৎপাদনসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে আমানত সংগ্রহ ও ঋণের সুদহার যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়া আমানতের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ ও তাদের দেওয়া সব ধরনের ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ১১ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ব্যাংকের সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে নতুন ও পুরোনো সব ধরনের ঋণের সুদের হার হয় ৯ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে মেয়াদি আমানতের সুদহার গড় মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম না হওয়ার শর্ত আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে আমানতের সর্বনিম্ন সুদহার দাঁড়ায় প্রায় ৬ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সুদহার বেঁধে দেওয়া নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁরা সুদহার বাজারব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সুদহার কমানোর জন্য আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক নানা উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের দেওয়া ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, নতুন নির্দেশনার ফলে কমপক্ষে ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সুদহার কমাতে হবে। আর দেশে এখন ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রমে রয়েছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন