default-image

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে গেলেও সরকারকে শুল্ক দিতে হয়। শুল্কহারও একেবারে কম না, ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ।

রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও এ ক্ষেত্রে কেন শুল্ক দিতে হয়, তা পরিষ্কার নয়। বিষয়টা অনেকটা এ রকম যে সরকার চায় না এসব পণ্য খুব বেশি রপ্তানি হোক। তবে কেউ রপ্তানি করতে চাইলে সরকারকে শুল্ক দিয়ে করতে হবে।

যেসব পণ্য শুল্ক দিয়ে রপ্তানি করতে হয়, সেগুলো হচ্ছে—ধান-চালের তুষ (রাইস ব্র্যান), তুলাবর্জ্য, ইট ও ইটের সামগ্রী (বিল্ডিং ব্রিকস), বিভিন্ন ধরনের সিসা ইত্যাদি। এসব পণ্য রপ্তানি করা হয় ভারত, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এসব দেশে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রমতে, পণ্যগুলোর শুল্কহার একটু বেশি। যেমন ধানের তুষ, সিসা ও তুলাবর্জ্যে ২৫ শতাংশ। আর বিল্ডিং ব্রিকসে ১৫ শতাংশ। সিগারেট রপ্তানিতেও একসময় শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এসব পণ্য রপ্তানির বিপরীতে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটে এ খাত থেকে ৫৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কিছুটা কমিয়ে ৪৯ কোটি টাকা করা হয়। অর্থবছর শেষ হলেও শেষ পর্যন্ত কত সংগ্রহ হয়েছে, সে হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

 অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের তথ্য বলছে, ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত মোট আট অর্থবছরে রপ্তানি শুল্ক বাবদ সরকার আয় করেছে ২৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরেই আয় হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া রপ্তানি শুল্ক বাবদ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩১ কোটি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২২ কোটি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩০ কোটি টাকা আয় হয়েছে।

>ধান-চালের তুষ (রাইস ব্র্যান), তুলাবর্জ্য, ইট ও ইটের সামগ্রী (বিল্ডিং ব্রিকস), বিভিন্ন ধরনের সিসা রপ্তানি করতে হয় শুল্ক দিয়ে চলতি অর্থবছরে রপ্তানি খাত থেকে ৫৫ কোটি টাকার শুল্ক আদায়ের লক্ষ্য
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১১৫ কোটি টাকা

তবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি শুল্ক থেকে সরকারের আয় হয়েছে মাত্র ৩ কোটি টাকা। আর ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ খাত থেকে কোনো আয়ই হয়নি। ২০১১-১২ অর্থবছরে অবশ্য ৬৭ কোটি টাকা আয় হয়েছিল।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, বিল্ডিং ব্রিকস রপ্তানি হয় সাধারণত সিঙ্গাপুরে। দেশটিতে বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ পণ্য রপ্তানি হয় ৮৩ লাখ ১৫৯ মার্কিন ডলারের। আর তুলাবর্জ্য রপ্তানি হয় ভারত ও মিয়ানমারে। বিদায়ী অর্থবছরে ভারতে ১১ হাজার ৬১৭ ডলার ও মিয়ানমারে ৯ হাজার ৩৬৯ ডলারের তুলাবর্জ্য রপ্তানি হয়। এ ছাড়া ধান-চালের তুষ মূলত রপ্তানি হয় ভারতে। আর সিসা রপ্তানি হয় মালয়েশিয়ায়।

কেন এসব রপ্তানি পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হয়, তা জানতে চাইলে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, দেশেই এসব কাঁচামালে মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। তাই শুল্ক আরোপ করে রপ্তানি নিরুৎসাহিত করা হয়।

 এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াও প্রথম আলোকে বলেন, এটা ঠিক, সরকার চায় না যে এসব পণ্য বেশি রপ্তানি হোক। কারণ, দেশের চাহিদা মেটানোর একটা ব্যাপার রয়েছে। পণ্যগুলোর কাঁচামালও খুব সহজলভ্য নয়। যেমন তুষ চাইলেই বেশি উৎপাদন করে বিদেশে বেশি রপ্তানি করা সম্ভব নয়।

দুই ধরনের পণ্যের দুই রপ্তানিকারকের সঙ্গে কথা বললেও কেউই নাম প্রকাশ করে কিছু বলতে চাননি। তবে উভয়েরই বক্তব্য প্রায় এক, শুল্কহার বেশি এবং প্রকাশ্যে কিছু বললে এনবিআর আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এই যুগে এসেও রপ্তানি নিরুৎসাহিত করার কোনো সরকারি হাতিয়ার থাকা উচিত নয় বলে তাঁরা মনে করেন।

রপ্তানি শুল্ক আরোপের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশীয় বাজারের কথা চিন্তা করে কিছু পণ্যে প্রায় সব দেশই এই চর্চাটি করে থাকে। তবে দেখতে হবে যেসব পণ্যে এই উচ্চ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, সেগুলো কতটুকু দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে, কতটুকু বাড়তি থাকছে, কর্মসংস্থানে কতটা কাজে লাগছে এবং আদতে রপ্তানি সুবিধাটি খুব নেওয়া যাচ্ছে কি না। এ জন্য শুল্ক হার পর্যালোচনা করা দরকার।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন