বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, পণ্য রপ্তানি, প্রবাসী আয় ও রাজস্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ও বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান, সরকারি ব্যয় ও মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থায় একটি স্বস্তির জায়গা তৈরি হবে। তবে মূল্যস্ফীতি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে একধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।

পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় গত মাসে ৪৯০ কোটি ডলারের রেকর্ড রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান গতকাল রোববার প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ডিসেম্বরে রেকর্ড রপ্তানির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ২ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। এই আয় গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি।

রেকর্ড এই রপ্তানির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। গত মাসে ৪০৪ কোটি ডলারের বা ৩৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৯৯০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি। প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ১১৬ কোটি ডলারের নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৩১ শতাংশ। আর ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৮৭৪ কোটি ডলারের। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ২৪ শতাংশ।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সুতা ও সরঞ্জামের দামের সঙ্গে সমান্তরালভাবে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তাই এটিকে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি বলতে হবে। আগামী পাঁচ-ছয় মাস এমনই থাকবে। যদি না অমিক্রন অস্বাভাবিক কোনো আচরণ করে।

ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী আয়

বিদায়ী বছরে রেকর্ড পরিমাণ আয় পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যদিও গত কয়েক মাসে প্রবাসীদের পাঠানো আয় কমছে। ২০২১ সালে সব মিলিয়ে প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ২০৭ কোটি ডলার। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে যে আয় এসেছে, তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ কম।

এদিকে প্রবাসী আয় বাড়াতে গত শনিবার থেকে প্রণোদনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল রোববার এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ফলে প্রবাসীরা এখন পাঠানো আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবে। আগে যা ছিল ২ শতাংশ। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী প্রথম আলোকে বলেন, প্রবাসীরা তাঁদের জমানো ও অনুদানের পুরো অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। কারণ, দেশে রেখে যাওয়া আত্মীয়দের ভালো রাখতেই তাঁদের বিদেশ যাত্রা। এ কারণে করোনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে গত বছর।

রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১৫.৩৪%

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এই সময় শুল্ক-কর আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৭৩ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৮৭ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। পরের মাসে তা ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। আর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে। তবে অমিক্রন দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। জুলাই-নভেম্বর সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি শুল্ক-কর আদায় হয়েছে। এই খাতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার ১০ কোটি টাকা। এরপরে আমদানি পর্যায়ে আমদানি শুল্ক, ভ্যাটসহ অন্যান্য কর আদায় হয়েছে ৩২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। আর আয়কর আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন