default-image

দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও শেয়ারের আবেদন শুরু হচ্ছে কাল মঙ্গলবার। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুঠোফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা আইপিওতে ৫২ কোটির বেশি শেয়ার বিক্রি করবে। কাল থেকে শেয়ার কিনতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি।

রবি আজিয়াটার আইপিওতে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুতে বিক্রি করবে। কোম্পানিটির আইপিওর প্রতিটি বাজারগুচ্ছ বা মার্কেট লটে রয়েছে ৫০০টি শেয়ার। সেই হিসাবে প্রতিটি বাজারগুচ্ছের জন্য একজন বিনিয়োগকারীকে পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নিজ নিজ ব্রোকারেজ হাউসে টাকা জমা দিয়ে বিনিয়োগকারীরা আইপিওতে আবেদন করতে পারবেন।
বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যেহেতু কোম্পানিটি আইপিওতে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করছে, তাই আবেদনকারীদের এটির আইপিও শেয়ার পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

বিজ্ঞাপন
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর রবি আজিয়াটা হবে বাংলাদেশের বাজারের সবচেয়ে বড় মূলধনী কোম্পানি। এ কারণে রবির তালিকাভুক্তির পর শেয়ারবাজারের বাজার মূলধনও একলাফে বেশ বেড়ে যাবে

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাল থেকে শুরু হওয়া চাঁদা গ্রহণ কার্যক্রম চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। রবি আজিয়াটার আইপিওর মাধ্যমে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে। যার সিংহভাগ অর্থই ব্যয় করা হবে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজে। কোম্পানিটির আইপিও পরবর্তী পরিশোধিত মূলধন দাঁড়াবে প্রায় ৫ হাজার ২৩৮ কোটি টাকায়।

আইপিও চাঁদা গ্রহণ কার্যক্রম শুরু উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি কর্মকর্তা সাহেদ আলম বলেন, ‘আমরা আশা করছি এ দেশের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বড় এ আইপিওতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক উন্নয়নের অংশীদার হবে।’

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর রবি আজিয়াটা হবে বাংলাদেশের বাজারের সবচেয়ে বড় মূলধনী কোম্পানি। এ কারণে রবির তালিকাভুক্তির পর শেয়ারবাজারের বাজার মূলধনও একলাফে বেশ বেড়ে যাবে বলেও জানান বাজার–সংশ্লিষ্টরা। কোম্পানিটির শেয়ারের ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস।

রবি শেয়ারবাজারে এলে এটি হবে দেশের মুঠোফোন অপারেটরদের মধ্যে দ্বিতীয় তালিকাভুক্ত কোম্পানি। এর আগে ২০০৯ সালে মুঠোফোন অপারেটরদের মধ্যে প্রথম কোম্পানি হিসেবে গ্রামীণফোন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।
বর্তমানে শেয়ারবাজারে টেলিযোগাযোগ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা দুটি। এর মধ্যে একটি গ্রামীণফোন, অন্যটি সরকারি মালিকানাধীন সাবমেরিন কেবল কোম্পানি। রবি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এ খাতের কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে তিনটিতে।

গত অক্টোবর মাসে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) রবির আইপিও আবেদন অনুমোদন করে। তাতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের আর্থিক বছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস দেখানো হয় ৪ পয়সা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0