বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরের বছর চাকরিজীবীদের ওপর শুধু টিআইএন নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়; রিটার্ন দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়। পাশাপাশি চাকরিজীবীর প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়, আয়কর অধ্যাদেশের ১০৮(এ) ধারা অনুয়ায়ী, প্রতিবছর ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের কোন কোন কর্মী রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তাদের নাম, টিআইএন, কর অঞ্চল, সার্কেল ইত্যাদির তথ্য জানাতে হবে। এনবিআরের কোনো তথ্য না জানালে ওই প্রতিষ্ঠানে আগের বছরের নিরূপিত করের ১০ শতাংশ জরিমানা করার বিধান আছে। এমনকি যত দিন এসব তথ্য জানাবে না, তত দিন প্রতি মাসের জন্য এক হাজার টাকার বাড়তি জরিমানা প্রযোজ্য হবে। ইতিমধ্যে চলতি মাসেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের রিটার্ন জমার তথ্য জানানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে। কর্মীরা তাদের এসব তথ্য জানাচ্ছেন।

এখন প্রশ্ন হলো, মাসুদ পারভেজের মতো যেসব কর্মী রিটার্ন দেননি কিংবা অফিসকে জানাচ্ছেন না, তাদের কী হবে? এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, কোনো কোনো বা কিছু কর্মী যদি রিটার্নের তথ্য না জানান, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানকে ভুগতে হবে না। যারা তথ্য জানিয়েছেন, তাদের তথ্য এনবিআরে পাঠিয়ে দিলেই হবে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের বেতন–ভাতা বাবদ খরচ বিশ্লেষণ করে বের করে ফেলতে পারব, কারা রিটার্নের তথ্য দেননি। যেমন একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পর্যায়ে ১০০ জন কর্মী আছেন। তাদের সবার রিটার্ন দেওয়ার কথা। কিন্তু ওই কর্মীদের ৮০ জন রিটার্নের তথ্য দিলে বাকি ২০ জনের তথ্য বেতন–ভাতার তথ্য বিশ্লেষণ করে কিংবা অন্য কোনো গোয়েন্দা কৌশলে বের করা হবে। যারা রিটার্ন দেননি, তাদের রিটার্ন জমায় বাধ্য করা হবে। জরিমানাও হতে পারে।’ গত বছর এমন কয়েক হাজার চাকরিজীবীকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, করযোগ্য আয় থাকলে অবশ্যই কর দিতে হবে। বাংলাদেশের বহু প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের ভালো বেতন দেয়। এসব কর্মীদের করের আওতায় আনা উচিত। তিনি মনে করেন, রিটার্ন দেওয়ার পদ্ধতি আরও সহজ করলে করদাতারা কর দিতে উদ্বুদ্ধ হবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানি করদাতা হিসেবে ১ লাখ ৬৬ হাজার কোম্পানি নিবন্ধিত আছে। তাদের মধ্যে বছরে ২৮-২৯ হাজার কোম্পানি রিটার্ন দেয়। বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের মধ্যে প্রতিবছর রিটার্ন জমা দেয় ২৬ লাখ টিআইএনধারী। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ৫ লাখের মতো রিটার্ন জমা দেন।

শ্রমশক্তির মাত্র ১৪-১৫ শতাংশ মানুষ আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। অর্থাৎ তাঁরা অফিস-আদালতসহ প্রতিষ্ঠিত শিল্প খাতে কাজ করে। এমন কর্মীর সংখ্যা ৬৫-৭০ লাখ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের মধ্যে নির্বাহী পর্যায়ের কাজ করেন বড়জোর ২০-৩০ শতাংশ।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন