default-image

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতি এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হলেও রিলায়েন্সের যেন পোয়াবারো হয়েছে। একের পর এক মাইলফলক পেরিয়ে যাচ্ছে মুকেশ আম্বানির কোম্পানি। এবার নতুন অর্জন হচ্ছে, ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের ক্লাবে পদার্পণ। এই প্রথম ভারতীয় কোনো কোম্পানির মূল্য ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেল।

সাধারণত শেয়ারের দামের ওপর নির্ভর করেই কোম্পানির মূল্য নির্ধারিত হয়। এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। বৃহস্পতিবার শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (রিল) এই উত্থান।

বৃহস্পতিবার মুম্বাই শেয়ারবাজার বন্ধের সময় রিলের শেয়ারের দাম উঠেছে ২ হাজার ৩১৪ দশমিক ৬৫ রুপি। দিন শেষে কোম্পানির মোট শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯০৮ কোটি রুপি—মার্কিন ডলারের হিসাবে যা ২১৫ বিলিয়নের বেশি।

ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার মুম্বাই শেয়ারবাজার বন্ধের সময় রিলের শেয়ারের দাম উঠেছে ২ হাজার ৩১৪ দশমিক ৬৫ রুপি। সেদিন শেয়ার দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। দিন শেষে কোম্পানির মোট শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯০৮ কোটি রুপি—মার্কিন ডলারের হিসাবে যা ২১৫ বিলিয়নের বেশি। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেও (এনএসই) মুকেশের কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় একই রকম।

করোনাভাইরাস ও লকডাউনের মধ্যেও রিলের ব্যবসা বেড়ে চলেছে। গুগল, ফেসবুক, সিলভার লেকের মতো কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে মুকেশ আম্বানির কোম্পানিতে। রিলায়েন্সের জিও প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি রিলায়েন্স রিটেইলে বিনিয়োগ করেছে সিলভার লেক। বুধবারই রিলের কর্ণধার জানান, রিলায়েন্স রিটেইলে ৭ হাজার ৫০০ কোটি রুপি ঢেলে রিলের ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছে সিলভার লেক।

এখানেই শেষ নয়, বৃহস্পতিবার এমন জল্পনা ছড়ায় যে এবার আমাজনের কাছে শেয়ার বিক্রি করছে রিলায়েন্স। দুই হাজার কোটি রুপি মূল্যের শেয়ার আমাজনকে বিক্রি করে দিতে পারে রিলায়েন্স। সেই জল্পনাতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রিলের শেয়ার কেনার চাহিদা বাড়তে থাকায় দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল বৃহস্পতিবার দিনভর।

তবে আমাজনের লগ্নির খবরটি সত্য নাকি জল্পনা, সারা দিন তা বোঝার চেষ্টা চলেছে নেট দুনিয়ায়। রিলায়েন্স অবশ্য দিনভর চুপ ছিল। শেয়ারবাজার বন্ধের পরে এক বিবৃতিতে তারা এ রকম খবর ঠিক কি না, তা যাচাইয়ের দায় চাপিয়েছে সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে। যদিও কিছুটা ধন্দ তৈরি করে সেখানেই তারা একবার বলেছে, ওই জল্পনা ঠিক নয়, পরক্ষণেই লিখেছে যে লেনদেনের কথা চলছে বা শেষ হয়নি, তা নিশ্চিত করতে বা অস্বীকার করতে পারে না কোম্পানি, তবে সব সময়ই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে। একই সঙ্গে জানিয়েছে, নীতিগতভাবে তারা এমন জল্পনা নিয়ে মন্তব্য করে না। আমাজন প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

৯ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুসারে, বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় পাঁচ নম্বরে থাকা মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ ৮৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর তিনি শীর্ষ ধনীর তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পঞ্চম স্থানে নেমে আসেন। চলতি বছর বেশ কয়েকটি বড় বিনিয়োগ এসেছে তাঁর রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0