বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই মাসে কয়েক হাজার মানুষ রাশিয়া ছেড়েছে। যদিও এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান কারও কাছে নেই। নাম উল্লেখ না করে একজন রাশিয়ান অর্থনীতিবিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ হামলার ১০ দিনের মধ্যে প্রায় ২ লাখ রুশ দেশ ছেড়েছে।

দুবাইয়ে কোম্পানি গঠন বা ব্যবসা শুরুর বিষয়ে সহায়তাদানকারী দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভার্তুজোনের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁরা তাঁদের প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক রুশ ধনী গ্রাহক পাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ হোজেইজ বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুশদের কাছ থেকে বিনিয়োগ বিষয়ে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি তথ্যানুসন্ধানের আবেদন পাচ্ছেন। এই রুশ নাগরিকেরা দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে ব্যাপকভাবে শঙ্কায় রয়েছেন। এ কারণে সম্পদ বাঁচাতে তাঁরা দুবাইমুখী হতে চাচ্ছেন।

রুশ ধনীদের দুবাইতে আসা বেড়ে যাওয়ায় শহরটিতে বিলাসবহুল ভিলা ও অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এমনকি রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা বলছেন, দুবাইয়ে গত কয়েক মাসে বাড়ির দামও বেশ বাড়তি। কারণ, রুশ ধনীরা কেনার জন্য পছন্দের বাড়ি খুঁজছেন। দুবাইভিত্তিক রিয়েল এস্টেট এজেন্সি বেটারহোমস বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে রুশদের সম্পত্তি ক্রয় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

দুবাইভিত্তিক আরেক রিয়েল এস্টেট এজেন্সি মডার্ন লিভিং বিবিসিকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারা এত বেশি রুশ গ্রাহক পাচ্ছে, যার জন্য রুশ ভাষা জানা কর্মী নিয়োগ দিতে হচ্ছে তাদের। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী থিয়াগো ক্যালডাস বলছেন, যেসব রুশ নাগরিক দুবাইয়ে বাড়ি বা সম্পত্তি কিনছেন, তাঁরা শুধু বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে তা করছেন না। বরং তাঁরা দুবাইকে তাঁদের সেকেন্ড হোম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, অনেক বহুজাতিক কোম্পানি ও রাশিয়ান স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর বড় অংশই এখন তাদের কর্মীদের দুবাইয়ে স্থানান্তর করছে।

এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর অর্থনীতি বাঁচাতে নগদ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে রুশ সরকার। এ কারণে দেশটির কোনো নাগরিক বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি সঙ্গে নিতে পারেন না। এ অবস্থায় রুশ নাগরিকদের বিদেশে নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে দুবাইয়ে বাড়ি কেনা বা সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে লেনদেনের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বেছে নিচ্ছেন। এমনকি কেউ কেউ লেনদেনের জন্য মধ্যস্থতাকারীও খুঁজছেন।

দুবাইয়ে হঠাৎ রাশিয়ার বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক অপরাধ পর্যবেক্ষণকারী বৈশ্বিক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএএফটি) দুবাইকে অর্থ পাচারের সন্দেহজনক দেশের তালিকায় রেখেছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন