বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একটি জেলায় কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান বেশি মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), সম্পূরক শুল্ক, আগাম ভ্যাট ও অগ্রিম কর দেয়, তা দিয়ে জেলায় কোন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য কেমন চলছে, তা বোঝা যায়। কুমিল্লার শীর্ষ ১০ করদাতার মধ্যে রয়েছে সিগারেট, কোমল পানীয়, চিকিৎসাসামগ্রী, ইস্পাত, খাদ্য ও বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান। বিদায়ী অর্থবছরে শীর্ষ ১০ করদাতা প্রতিষ্ঠান মিলে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা শুল্ক-কর দিয়েছে। এ জেলায় ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বা ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ হাজারের মতো।

কুমিল্লা কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে কুমিল্লা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বেশ সম্ভাবনাময় জায়গা। কারণ, সড়কপথে মাত্র তিন-সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে যেমন যাওয়া যায়, তেমনি রাজধানীতেও পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া এ শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্যও রয়েছে। রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা করলে এই জেলায় নতুন করে আরও বিনিয়োগ আসবে বলে তিনি মনে করেন।

সেরা দশে কারা
এ জেলায় করদাতাদের মধ্যে শীর্ষে আছে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানি। সিগারেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির কারখানা কুমিল্লার লাকসামের ফতেহপুরে। কোম্পানিটি বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৮১২ কোটি টাকা শুল্ক-কর দিয়েছে। সিগারেটের ওপর শুল্ক-করের হার বাজারদরের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ। তাই সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানি থেকে বেশি শুল্ক-কর আদায় হয়।
আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক জামাল উদ্দিন মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, দেশি-বিদেশি সব ধরনের সিগারেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওপর একই ধরনের করহার। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা কঠিন। তাই দেশি-বিদেশি সিগারেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের করহারে পার্থক্য থাকা উচিত।

সেরা ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে আছে কোমল পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বখ্যাত ‘কোকাকোলা’ বানায় এই প্রতিষ্ঠান। বিদায়ী অর্থবছরে আব্দুল মোনেম লিমিটেড ১০৩ কোটি টাকা শুল্ক-কর দিয়েছে। কুমিল্লার বিশ্বরোড-সংলগ্ন আলেখাচরে প্রতিষ্ঠানটির কারখানা।
করদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে জেএমআই গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান। দুটি প্রতিষ্ঠানেরই কারখানা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। গত অর্থবছরে ১৯ কোটি টাকা শুল্ক-কর দিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে এই শিল্পগোষ্ঠীর নিপ্পো-জেএমআই ফার্মা লিমিটেড। অন্যদিকে জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইস শুল্ক-কর দিয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। করোনার টিকা দিতে যে সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হচ্ছে, সব সিরিঞ্জ উৎপাদন করে সরকারকে জোগান দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। গত আট মাসে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ৩ কোটি ৩০ লাখ সিরিঞ্জ সরবরাহ করেছে। কোভিড-১৯ টিকা প্রদানে ব্যবহৃত সিরিঞ্জের বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলো ‘অটো ডিসপোজেবল’। এই সিরিঞ্জ পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ নেই।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোভিডের টিকা দেওয়ায় আমাদের সিরিঞ্জ ব্যবহার হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) শর্ত দিয়েছে, অটো ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ দিয়েই করোনার টিকা দিতে হবে।’ তিনি বলেন, শুল্ক-কর দেওয়ার ক্ষেত্রে জেএমআই গ্রুপ সব সময় নিয়মকানুন মেনে চলে।
করদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পঞ্চম স্থানে আছে কুমিল্লার দেবপুরের কুমিল্লা স্পিনিং মিল। প্রতিষ্ঠানটি গত অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা শুল্ক-কর দিয়েছে। এ ছাড়া শহরের পাশেই বাগরজুলিতে সফিউল আলম স্টিল রি-রোলিং মিলসের কারখানা। এই কারখানা থেকে গত অর্থবছরে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা শুল্ক-কর পেয়েছে সরকার। সেরা দশ করদাতার তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ষষ্ঠ।

এ ছাড়া আব্দুল মোনেম লিমিটেডের কিনলে বোতলজাত পানীয়ের প্রতিষ্ঠান সপ্তম স্থানে আছে। প্রতিষ্ঠানটি গত বছর প্রায় আড়াই কোটি টাকার ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক দিয়েছে। চান্দিনার এস আর এম ইলেকট্রনিক ২ কোটি টাকা শুল্ক-কর দিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে। নবম ও দশম স্থানে আছে যথাক্রমে লালমাই ফুড প্রোডাক্টস ও আরকু ফুডস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠান দুটি যথাক্রমে দেড় কোটি টাকা ও এক কোটি টাকা শুল্ক-কর দিয়েছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন