দেশে শ্রম আইন সংশোধন করা হলেও শ্রমবিধি প্রণীত হচ্ছে না। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) শ্রমিকেরাও অধিকার বঞ্চিত হয়ে আছেন। এ ছাড়া হয়রানির শিকার হচ্ছেন ঢাকার বিভিন্ন জায়গার শ্রমিকেরা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গতকাল সোমবার সাসটেইনিবিলিটি কমপ্যাক্টের অগ্রগতি বিষয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতেরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দেশে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের অধিকার ও কারখানায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালের ৮ জুলাই জেনেভায় গৃহীত হয় সাসটেইনিবিলিটি কমপ্যাক্ট। এতে কিছু বিষয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তা পূরণ করতে বলা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, পররাষ্ট্রসচিব শহিদুল হক, শ্রমসচিব মিকাইল শিপার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ও কানাডার হাইকমিশনার উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরে জনবল নিয়োগ, কাঠামোগত সংস্কার, শ্রম আইনের বিধি প্রণয়ন এবং পোশাক কারখানা পরিদর্শনের অগ্রগতির চিত্র বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
বৈঠক শেষে যোগাযোগ করলে বাণিজ্যসচিব প্রথম আলোকে জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা-পরবর্তী সময়ে শ্রম অধিকার রক্ষা ও পোশাকশিল্পের বিষয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স প্রতিপালনে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে একটি মডেল বা আদর্শ হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তাঁরা। তবে প্রশ্ন তোলেন শ্রমবিধি, ইপিজেড আইন প্রণয়ন ও শ্রমিক হয়রানি নিয়ে।
প্রশ্নের জবাব কীভাবে দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘আমরা বলেছি যে শ্রমবিধিসহ সবকিছুই হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি ঠিক নয়।’
শ্রমসচিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রমবিধি প্রণয়নের আগে অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে বৈঠক করতে হয়েছে। তবে এখন তা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।’ এসব কথা রাষ্ট্রদূতদের কাছে তুলে ধরার পর বিষয়টি তাঁরা বুঝতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন