বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা বেশি ভিকটিম হলাম। আমাদের জন্য মারামারি হয়নি। আমরা তাতে অংশও নিইনি। কিন্তু অনেক ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের মার্কেটের দোকানপাটের।
মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট ও নূর মার্কেট হকার্স অ্যাসোসিয়েশন

সোম ও মঙ্গলবার দফায় দফায় সংঘর্ষের পর ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মাঝেই গতকাল দোকান খোলা নিয়ে ছিল শঙ্কা। সেই শঙ্কার বাস্তব রূপ দেখা গেছে সরেজমিনে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড় থেকে শুরু করে নীলক্ষেত পর্যন্ত অধিকাংশ বিপণিবিতান ও দোকান বন্ধ। অল্প কয়েকটি বিপণিবিতানের হাতেগোনা কিছু দোকান খোলা ছিল। তবে সেখানে মূল ফটক বন্ধ রেখে পার্কিং বা পকেট গেট দিয়ে ক্রেতাদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়।

দুপুর পর্যন্ত ওই এলাকায় নিউমার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেট ছাড়াও নূরজাহান মার্কেট, খান প্লাজা, কাদের আর্কেড, লাটিমী শপিং মল, গোল্ডেন গেট মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটসহ অধিকাংশ বিপণিবিতানের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখা গেছে। রাস্তার পাশের অস্থায়ী খুচরা বিক্রেতাদেরও দেখা যায়নি কোথাও।

এসব দোকানপাটের মালিক ও বিক্রয়কর্মীরা মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিপণিবিতান খোলার নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি জানার জন্য তাঁদের কেউ অনলাইনে পত্রিকা পড়ছিলেন, কেউবা খোঁজখবর করছিলেন ফেসবুকে। জানতে চাইলে নূরজাহান মার্কেটের একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী বেলাল হোসেন বলেন, ‘দোকান খোলার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। মালিক আমাদের বলেছেন অপেক্ষা করতে, তাই এখানে অপেক্ষা করছি।’

তবে সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ের বেশ কিছু দোকান গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার পর খুলতে দেখা যায়। তবে সেসব দোকানে ক্রেতার সংখ্যা একদমই কম ছিল। দুপুর ১২টার পর কথা হয় সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের বায়তুল মামুর জামে মসজিদ মার্কেটের শৈলী ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী শাহ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গতকাল তো দোকান বন্ধই ছিল। আজকেও প্রায় দুপুর পর্যন্ত খুলতে পারিনি। মালিকের নির্দেশে পৌনে ১২টার দিকে দোকান খুললাম। আধা ঘণ্টায় মাত্র দুজন ক্রেতা এসেছেন। একটি পণ্য বিক্রি করতে পেরেছি।’ শাহ আলমের দাবি, সংঘর্ষের এ ঘটনার কারণে গত দেড় দিনে তাঁর দোকানের প্রায় দুই লাখ টাকার বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্য ব্যবসায়ীরাও কমবেশি আর্থিক ক্ষতির কথা জানান। পাশাপাশি নিউমার্কেট এলাকার ব্যাপারে নেতিবাচক প্রচারণা নিয়েও উদ্বেগ উঠে এসেছে তাঁদের কথায়। খাদি মিউজিয়ামের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই এলাকার ব্যবসায়ীদের নিয়ে যেভাবে নেতিবাচক প্রচারণা হয়েছে, তাতে ক্রেতাদের আবারও নিউমার্কেটমুখী হতে কিছু সময় লাগবে।

গতকাল বেলা একটা থেকে নিউমার্কেট ও চন্দ্রিমা মার্কেট ছাড়া ওই এলাকার অন্য বিপণিবিতানগুলো ধীরে ধীরে খুলতে দেখা যায়। বেলা দেড়টার দিকে সাদা পতাকা টানিয়ে দোকান খোলার নির্দেশ দেন ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট ও নূর মার্কেট হকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। এই দুই মার্কেটে প্রায় ৭০০ দোকান আছে। তবে বিকেলে ককটেল বিস্ফোরিত হলে আবার দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা বেশি ভিকটিম হলাম। আমাদের জন্য মারামারি হয়নি। আমরা তাতে অংশও নিইনি। কিন্তু অনেক ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের মার্কেটের দোকানপাটের।’ গত দুই দিনে তাঁদের মার্কেটের দোকানপাটের প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংঘর্ষের ঘটনায় দোকানমালিকদের পাশাপাশি দুশ্চিন্তায় আছেন কর্মচারীরাও। তাঁদের শঙ্কা, ঈদের আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় বিক্রিতে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে কর্মচারীদের ঈদের বেতন-বোনাস পেতে সমস্যা হতে পারে।

এদিকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত নিউমার্কেট ও চন্দ্রিমা মার্কেট বন্ধ ছিল। জানতে চাইলে ঢাকা নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (বুধবার) সন্ধ্যা নাগাদ মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটা আর হয়ে ওঠেনি। সবার সঙ্গে কথা বলে আগামীকাল (আজ) থেকে নিউমার্কেটের সব দোকান খুলতে পারব আশা করছি।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন