আমার ৮ লাখ টাকার মালামাল পুড়েছে। আর ক্যাশ টাকা পুড়েছে ৭ লাখ। ব্যাংকে ও মার্কেটে ধারসহ মোট ঋণ আছে ১৭ লাখ টাকার মতো। এখন তো আমি নিঃস্ব। ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কোনো সম্বল আমার নেই।
ফয়সাল আকন্দ, দোকানদার, নূরজাহান মার্কেট

নূরজাহান সুপার মার্কেট বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. মহসিন প্রথম আলোকে বলেন, আগুন লেগে এই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সব মিলিয়ে ১২ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া মার্কেটের এসিসহ বেশ কয়েক লাখ টাকা দামের অন্য জিনিসপত্রও নষ্ট হয়েছে। এখনো অধিকাংশ দোকানে চলছে মেরামতকাজ। বিক্রিতে ফিরতে তাঁদের আরও তিন–চার দিন লাগবে।

নূরজাহান মার্কেটে প্রথম আগুন লাগে ফয়সাল আকন্দের পোশাকের দোকানে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নূরজাহান মার্কেট বণিক সমিতির কার্যালয়ে ফয়সালের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। প্রথম আলোকে তিনি জানান, সংঘর্ষ শুরু হলে দ্রুত দোকান বন্ধ করে তিনি হকার্স মার্কেটের পাশে অবস্থান নেন। এরপর সেখানে আগুন লাগলে দূর থেকে দেখতে পান তিনি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ঢিল ছোড়ার কারণে দোকানের কাছে যেতে পারেননি বলে জানান।

আগুন লাগার বর্ণনা দিয়ে ফয়সাল বলেন, প্রথমে তারা (যারা আগুন দেয়) শাটারের বাইরে আগুন দেয়। সে আগুন নিভে গেলে শাটারের তালা ভেঙে দোকানের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আগুন নেভাতে কাউকেই সামনে আসতে দেয়নি তারা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলে তাঁর দোকানে। এতে সব পোশাক পুড়ে যায়।

পুঁজি–পণ্য সব হারিয়ে ঋণগ্রস্ত ফয়সাল দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ৮ লাখ টাকার মালামাল পুড়েছে। আর ক্যাশ টাকা পুড়েছে ৭ লাখ। ব্যাংকে ও মার্কেটে ধারসহ মোট ঋণ আছে ১৭ লাখ টাকার মতো। এখন তো আমি নিঃস্ব। ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কোনো সম্বল আমার নেই।’

কেউ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘এই মার্কেটের জমিদার (দোকানের মূল মালিক) ও ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন যে আমাদের পাশে থাকবেন। আর কেউ কিছু বলেননি।’

ফয়সালের মতো নিঃস্ব অবস্থার কথা জানালেন পুড়ে যাওয়া পাশের দোকানের মালিক মো. সোহাগ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘জমানো পুঁজি আর ধারদেনা করে দোকানে ১০ লাখ টাকার মালামাল তুলেছিলাম ঈদ উপলক্ষে। সব পুড়ে গেছে। একটা সুতা পর্যন্ত অক্ষত বের করতে পারিনি। মার্কেটে পাওনা আছে সাত–আট লাখ টাকার। আত্মীয়স্বজনের কাছেও ঋণ আছে।’ এখন কীভাবে এসব ঋণ শোধ করবেন, সেই চিন্তায় আছেন সোহাগ।

এদিকে দোকানিদের সহযোগিতা করার বিষয়ে জানতে চাইলে আশার কথা শোনাতে পারেননি ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা। নূরজাহান সুপারমার্কেট বণিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘তাঁদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার মতো কোনো ফান্ড কমিটির কাছে নেই। এরপরও আমরা তাঁদের পাশে থাকাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এখন সরকার যদি সাহায্য না করে, তাহলে এই ব্যবসায়ীরা কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।’ পাশাপাশি বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কাছেও সাহায্য চাইবেন বলে জানান।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন