default-image

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সদ্য বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। তবে আগেরবারের চেয়ে রাজস্ব আদায়ে ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এনবিআরের সাময়িক হিসাবে দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে ২ লাখ ৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার শুল্ক, কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আদায় হয়েছে। এটি সাময়িক হিসাব। এনবিআরের এবার সংশোধিত লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। তবে চলতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দেওয়া শেষ হলে রাজস্ব আদায় চার-পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

গত অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়। পরে তা কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

গত অর্থবছর থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। সে জন্য ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকার যে লক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল, নতুন ভ্যাট আইন চালু করা হলে তাতে বাড়তি রাজস্ব আদায় হবে, তা ধরে নিয়েই ওই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের চাপে বাজেট পাস হওয়ার আগেই নতুন ভ্যাট আইন দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়। তখন বলা হয়েছিল, নতুন ভ্যাট আইন না হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় ঘাটতি হতে পারে। তাই বছরের শেষ দিকে এসে ২৩ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য কমিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সংশোধিত লক্ষ্যও অর্জিত হয়নি।

বিদায়ী অর্থবছরে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে আমদানি শুল্ক, মূসক, সম্পূরক শুল্কসহ মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬১ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। এই খাতে লক্ষ্য ছিল ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এই খাতে বছর শেষে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। স্থানীয় পর্যায়ে মূসক, সম্পূরক শুল্ক, আবগারি শুল্কসহ মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৮ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। এই খাতে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্য ছিল ৮৩ হাজার কোটি টাকা। এখানে ঘাটতি ৪ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরে আয়কর, ভ্রমণ করসহ প্রত্যক্ষ কর আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এই খাতে আদায় হয়েছে ৬৬ হাজার ৩ কোটি টাকা। এই খাতেই সবচেয়ে বেশি প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ছিল।

এদিকে লক্ষ্য অর্জিত না হলেও গত অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ে আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৫৬ কেটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সাময়িক হিসাবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। সে সময়ে বলা হয়েছিল, ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত লক্ষ্যের চেয়ে ৩ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। কিন্তু বছর শেষে চূড়ান্ত হিসাবে তা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মতো কমে গেছে।

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে লক্ষ্য অর্জন না হলেও চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) এনবিআরকে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে; যা চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের চেয়ে ৯০ হাজার কোটি টাকা বেশি। সেই হিসাবে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হতে হবে প্রায় ৪৪ শতাংশ। এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে অতীতে কখনোই এতটা প্রবৃদ্ধি হয়নি। তাই শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের এ লক্ষ্য পূরণ হবে না বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। 

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন