default-image

যেসব গ্রাহক অনলাইনের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কিনেও মুনাফা পাচ্ছিলেন না, তাদের স্বার্থে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিসগুলো সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশব্যাপী এই অফিস খোলা থাকবে প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত।

বুধবার সঞ্চয় অধিদপ্তর এমন আদেশ জারি করে বিভাগীয় ও জেলা অফিসগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে। তবে যারা আগের নিয়মে কাগজে-কলমে (ম্যানুয়াল) সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তাদের সমস্যা থেকেই গেল। আদেশে তাদের মুনাফার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে এখন সাধারণ ছুটি চলছে। তারপরও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতাধীন সব জেলা সঞ্চয় ব্যুরো ও জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরোগুলো প্রতি বৃহস্পতিবার তিন ঘণ্টার জন্য খোলা রাখা হবে। শুধু অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বিষয়ক কাজে খোলা রাখা হবে এ অফিসগুলো।

আরও বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর আগে ছুটি বিষয়ক যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা অনুসরণ করে অফিসে আসা-যাওয়া করতে হবে এবং অফিসে অবস্থান করতে হবে। এ সময় তাদের সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও নিতে হবে। জাতীয় সঞ্চয়ের বিভাগীয় কার্যালয়গুলোর উপপরিচালকেরা বিষয়গুলোর তদারকি করবেন। আর দায়িত্ব পালনকালে যাতায়াতের সময় কর্মচারীদের পরিচয়পত্র ও এই আদেশের কপি সঙ্গে রাখতে হবে।

ছুটি থাকায় সঞ্চয় অধিদপ্তরের কর্মচারীরা অফিসে আসছিলেন না, ফলে সঞ্চয়পত্রের অনেক গ্রাহক মুনাফাও পাচ্ছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে মুনাফা না পাওয়ায় কষ্ট হচ্ছিল বলে অভিযোগ করে যাচ্ছিলেন গ্রাহকেরা। গত ১২ এপ্রিল রোববার এ নিয়ে প্রথম আলো অনলাইনে ‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফা জমা হচ্ছে না গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর ছুটির মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মচারীদের গত সোমবার ডেকে পাঠায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় সপ্তাহে এক দিন অফিস খোলা রাখার। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে আনুষ্ঠানিক আদেশ হয় বুধবার।

জানতে চাইলে সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামছুন্নাহার বেগম বুধবার রাতে মোবাইল ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘'যারা অনলাইনের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ১ জুলাইয়ের পর সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তাদের অনেকে মুনাফা পাচ্ছিলেন না। সপ্তাহে এক দিন অফিস রাখার সিদ্ধান্ত হওয়ায় এখন সমস্যা কেটে যাবে।’

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা মুনাফা পেয়েছেন ১৮ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। গত জানুয়ারিতে মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। সাত মাসের গড় হিসাব বলছে, প্রতি মাসে ২ হাজার ৬১১ কোটি টাকা করে মুনাফা পান গ্রাহকেরা।

মোটা দাগে চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকই দেশে বেশি। এগুলো হচ্ছে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা, সঞ্চয় ব্যুরো, ডাকঘর এবং নির্ধারিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো (লিঙ্কড ব্যাংক) থেকে গ্রাহকেরা সঞ্চয়পত্র কিনে থাকেন।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসের শুরুতেই ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে আগের মাসের মুনাফার টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয়ে আসছে। কিন্তু চলতি মার্চ মাসে গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে অনেকেরই মুনাফার টাকা জমা হয়নি।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের কর্মচারীরা জানান, ছুটি থাকার কারণেই এই সমস্যা হয়েছে। এখন প্রত্যেক অফিসের একজন কর্মচারী হিসাব করবেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহক কত টাকা মুনাফা পাবেন, আরেকজন কর্মচারী অনুমোদন দেবেন। এরপর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে।

যারা ম্যনুয়ালি সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তাদের মুনাফার কী হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের ডিজি সামছুন্নাহার বেগম বলেন, ‘'করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থেই এ নিয়ে আপাতত কোনো উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না। ম্যানুয়ালি যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, মুনাফা পেতে তাদের সশরীরে আমাদের অফিসে আসতেই হবে।’ অফিস স্বাভাবিকভাবে খোলার আগ পর্যন্ত এ ধরনের গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0