default-image

সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এবারের পবিত্র রমজান মাস নিদারুণ কষ্টের। কারণ একদিকে গত বছরের রোজার তুলনায় এবার প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেশি। অন্যদিকে করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা। তাতে শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামীকাল শনিবার থেকে রোজা শুরু হতে পারে। গত বছর ও এবারের রোজার আগের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখা যায়, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও গরুর মাংসের দাম এবার অনেক বেশি। অবশ্য সবজি ও ব্রয়লার মুরগির দাম কম। তবে তা–ও বাড়তে শুরু করেছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ও ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় গত বছর রোজার আগে এক কেজি মোটা চাল ৩২ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে ছিল, এখন তা ৪২ থেকে ৪৫ টাকা।

এবার পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে কেবল সরবরাহের অভাবে। কিছুটা দাম বেড়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজির আশপাশে, যা গত বছর ৩৫ টাকার মধ্যে ছিল। দেশি রসুন ১৩০ থেকে ১৫০ ও চীনা রসুন ১৮০ টাকায় মিলছে, যা গত রোজায় সর্বোচ্চ ১২০ টাকার মধ্যে ছিল। ছোলার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৭৫ থেকে ৯০ টাকায়। তবে পণ্যটি গত বছরও এ রকম দামেই বিক্রি হয়েছে।

 করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। এরপর সবজি, ডিম ও মুরগির দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়। অবশ্য রোজা সামনে রেখে লম্বা বেগুন ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা এত দিন ৩০ থেকে ৪০ টাকা ছিল। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১২০-১৩০ টাকায় উঠেছে।

 এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গতকাল দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পণ্য ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা বা কারণ নেই।

 অবশ্য মানুষের দুর্ভোগ চরমে। গাবতলীর বাসিন্দা আবদুল করিম গতকাল বৃহস্পতিবার পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি মসুর ডাল, আধা কেজি ছোলা, এক কেজি চিনি, দুই কেজি পেঁয়াজ, আড়াই শ গ্রাম করে রসুন ও আদা কিনেছেন। মোট ব্যয় ৯০৫ টাকা। গত বছরের চেয়ে তাঁর খরচ বেড়েছে ২৪৫ টাকা বা ২৭ শতাংশের বেশি।

পরিবহনশ্রমিক আবদুল করিম বলেন, ‘এক মাস ধরে পরিবহন বন্ধ। কোনো আয় নেই। ওদিকে সবকিছুর দাম বাড়তি। না পারছি ঢাকায় থাকতে, না পারছি গ্রামে যেতে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0