বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: বর্তমানে আবাসন খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?
জিল্লুল করিম: আবাসন খাতের জন্য সব সময়ই বড় সমস্যা জমির সংকট। দিন যত যাচ্ছে, জমির সংকট তত প্রকট হচ্ছে। সঠিক জায়গায় সঠিক দামে জমি পাওয়া এ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জমির দামের কারণেই ফ্ল্যাটের দামেও বড় ধরনের হেরফের হয়। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিও সময়ে সময়ে এ খাতে সংকট তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীরই দাম বেড়েছে। তাতে বছরখানেকের ব্যবধানে ফ্ল্যাটের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম যদি আরও বাড়ে, তাহলে ফ্ল্যাটের দামও বাড়বে।

প্রথম আলো: সবাই মিলে শুধু ঢাকায় ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বানাচ্ছেন। তাতে জমির দাম তো বাড়বেই। ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন না কেন?
জিল্লুল করিম: সবাই জানতে চান, আমরা আবাসন ব্যবসাকে ঢাকার বাইরে নিয়ে যাচ্ছি না কেন? আমি বলব, আমরা ব্যবসায়ী। গ্রামেগঞ্জে বা ঢাকার বাইরে যেখানেই ব্যবসার সুবিধা দেখব, আমরা সেখানেই যাব। হাতে গোনা কয়েকটি শহর ছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো চাহিদা তৈরি হয়নি। তাহলে যেখানে ব্যবসা হবে না, সেখানে আমরা কেন যাব? আপনি যদি খোঁজ নেন তাহলে জানবেন, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বড় বড় শহর থেকে সামর্থ্যবান মানুষ প্রতিনিয়ত ঢাকায় চলে আসছেন। কারণ, ঢাকার তুলনায় সেসব জায়গায় সুযোগ-সুবিধা অনেক কম। আমার অভিজ্ঞতায় এমনও দেখেছি, চট্টগ্রামে নিজের বিশাল বাড়ি রেখে সন্তানের পড়াশোনার প্রয়োজনে অনেকে ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনে থাকছেন। এই যখন অবস্থা, তখন বড় শহরের বাইরে এ ব্যবসাকে নিয়ে যাওয়ার বাস্তবতা কতখানি, সেটি গভীরভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আবাসন ব্যবসাকে নিয়ে যেতে হলে সবার আগে সব জায়গায় সমান নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা দরকার।

প্রথম আলো: গ্রামগঞ্জে তো এখন নানা ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। যোগাযোগব্যবস্থারও অনেক উন্নতি হয়েছে। তারপরও কেন এ সমস্যা?
জিল্লুল করিম: গ্রামগঞ্জের অনেক উন্নতি হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারপরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছেন। এর প্রধান কারণ হলো, সেসব জায়গায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থার অভাব রয়েছে। তাই যত দিন বড় শহরগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে না, তত দিন মানুষ ঢাকামুখী হবেন। আর তাতে ঢাকায় জমির চাহিদা বাড়বে। সেই সঙ্গে ফ্ল্যাটের দামও বাড়তে থাকবে।

প্রথম আলো: সম্প্রতি রাজউক ঢাকায় নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত সংকটে পড়বে। ফ্ল্যাটের দামও অনেক বেড়ে যাবে। আপনি কী মনে করেন?
জিল্লুল করিম: নতুন ড্যাপের বিষয়ে আমরা এখনো বিস্তারিত কিছু জানি না। তবে যতটুকু শুনেছি, তাতে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতার বেশি ভবন নির্মাণ করা যাবে না। সেটি হলে ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যাবে। আমাদের জনবসতির এখন যে অবস্থা, তাতে ভার্টিক্যাল শহর গড়তে হবে। সুউচ্চ ভবন তৈরি করতে হবে। সিঙ্গাপুর যেভাবে করেছে। যদি আমরা কম উচ্চতার ভবনের দিকে যাই, তাহলে দেখা যাবে অনেক আবাদি জমি নষ্ট হবে। সে ক্ষেত্রে অন্য জায়গায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু ঢাকাকে চিন্তা করে কোনো কিছু করা ঠিক হবে না। বড় বিভাগীয় শহরগুলোকেও বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে। আমি মনে করি, যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সেটি চূড়ান্ত করা ভালো। তাহলে কোনো খাত সমস্যায় পড়বে না।

প্রথম আলো: বর্তমানে গ্রাহকদের মধ্যে কী ধরনের ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি? আর আবাসন ব্যবসার সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?
জিল্লুল করিম: বর্তমানে ক্রেতাদের মধ্যে এক হাজার থেকে দেড় হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। ঢাকা শহরের যেসব এলাকায় ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানেই ফ্ল্যাটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ভবিষ্যতে আবাসন খাতের ব্যবসার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, নিজের একটা ঠিকানা হবে, এই স্বপ্ন দেখেন মানুষ। যদি ঢাকা শহরের অবস্থাই বলি, প্রায় দুই কোটি লোকের বাস এ শহরে। আমাদের হিসাবে এর মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ লোকের নিজের ফ্ল্যাট বা বাড়ি রয়েছে। বাকি ৮৫ শতাংশ লোকের কাছে ফ্ল্যাট বা বাড়ির স্বপ্ন এখনো অধরা। এই ৮৫ শতাংশের মধ্যে ১ শতাংশও যদি ফ্ল্যাট কেনেন, তাহলে প্রায় এক লাখ ফ্ল্যাটের চাহিদা তৈরি হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে দেখা যাবে গ্রামেগঞ্জের মানুষও তাঁদের নিজের বাড়িটাকে একটু আধুনিক করতে চাইবেন। আমরা হয়তো তখন গ্রামেগঞ্জে গিয়ে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ি তৈরি করে দেব। সেটি হলে আবাসন ব্যবসায়ে নতুন মাত্রা যোগ হবে। তাই আমি আগামী দিনগুলোতে আবাসন ব্যবসার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখি।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন