বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তিন বছর ধরে দায়দেনা বাড়ছে

অনুষ্ঠানে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য একটি হিসাব দিয়ে জানান, তিন বছর ধরে দেশের দায়দেনা বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ, বিদেশি ও বেসরকারি খাতের ঋণসহ সব মিলিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে দায়দেনার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৬৫৯ কোটি ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে ৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ। অথচ তিন বছর আগেও এই হার ছিল ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে জিডিপির হিসাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে তিন বছর ধরে বার্ষিক গড়ে সরকারের দায়দেনা ১ হাজার ৬৪৫ কোটি ডলার করে বাড়ছে। এর মধ্যে দেশি উৎসের দায়দেনা ৭২৭ কোটি ডলার এবং বিদেশি ঋণও ৭২৭ কোটি ডলার করে বেড়েছে।

বিদেশি দায়দেনায় তিন বছর অস্বস্তি

বিদেশি দায়দেনায় বাংলাদেশ তিন বছর পর অস্বস্তিকর অবস্থানে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরে বিদেশি দায়দেনায় অস্বস্তিকর অবস্থানে চলে যেতে পারে দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ সবুজ (স্বস্তিকর) অবস্থানে আছে। এটি ধীরে ধীরে হলুদ অবস্থানে (অস্বস্তিকর) যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আপাতস্বস্তি না–ও থাকতে পারে। এখন আমরা বিদেশি দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে বেশি মূল্যে বেশি ঋণ করছি। যেমন, চীন, রাশিয়া ও ভারত থেকে ঋণ নিচ্ছি। এসব দেশের ঋণের রেয়াতি সময় (গ্রেস পিরিয়ড) শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া সরবরাহকারী ঋণের পরিমাণও বাড়ছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, ‘বহুপক্ষীয় উৎসের বদলে দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে বেশ ঋণ নিচ্ছি। অথচ পাইপলাইনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মতো সাশ্রয়ী ঋণ ব্যবহার করতে পারছি না।’

বিদেশি দায়দেনার চেয়ে দেশি উৎসের দায়দেনাও কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বলেন, এত বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশে মাত্র ৭৪ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। মাত্র ২৩ লাখ করদাতা দিয়ে এত উন্নয়ন হচ্ছে! এর মানে, সরকারের যথেষ্ট পরিমাণ আর্থিক সংগতি নেই। তাঁর মতে, অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি দুই উৎস থেকে তুলনামূলক বেশি সুদে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

নির্বাচনী চক্রে সরকারের দায়দেনা

নির্বাচনের বছরের আগে-পরে সরকারের ঋণ গ্রহণ বেড়ে যায়—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি গ্রাফের মাধ্যমে দেখান, গত দুটি জাতীয় নির্বাচনের (২০১৪ ও ২০১৮ সাল) আগের বছর, নির্বাচনের বছর ও পরের বছর দেশি-বিদেশি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। দেশের দায়দেনা পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় ‘নির্বাচনী চক্র সূচক’ হিসেবে উঠে আসছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যেকোনো দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে দৃশ্যমান প্রকল্প বেশি হয়। অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এসব প্রকল্পের যথার্থতা কম। অন্যদিকে নির্বাচনের সময় বিদেশে অর্থ পাচার বেড়ে যায়।

শ্রীলঙ্কা থেকে শিক্ষা

বাংলাদেশে কি শ্রীলঙ্কার মতো সংকট হতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তরে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি তা দেখি না। কোনো দেশের সঙ্গে অন্য দেশ তুলনীয় নয়। মূল বিষয় হলো, শ্রীলঙ্কা থেকে কী শিখলাম। একসময় আমাদের দেশেও বন্ড ছাড়ার ধোঁয়া উঠেছিল। সরকার এ বিষয়ে রক্ষণশীল ছিল। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় হাম্বানটোটা বন্দর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে সেই দেশের বিশেষজ্ঞরা কথা বলেছিলেন। তবু দেশটির সরকার তা করেছে।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন