default-image

চলমান টানা হরতাল-অবরোধের প্রথম এক মাসে কারওয়ান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা যেমন ভেঙে পড়েছিল, এখন তা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে—এমনটাই মনে করেন কারওয়ান বাজার ক্ষুদ্র আড়ত মালিক সমিতি এবং কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট সমিতির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন।
প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গত বৃহস্পতিবার লোকমান হোসেন বলেন, সারা দেশ থেকে এখন সবজিবাহী ট্রাক বেশি আসছে, কয়েক দিন আগেও যেমনটা ছিল না। তবে এখনো ট্রাকের ভাড়াটাই আড়তমালিকদের ভোগাচ্ছে। তিনি জানান, অবরোধের প্রথম দিকে ১১ হাজার টাকার ট্রাকভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩২ হাজার টাকায়। সেটা এখন ২০ হাজারে নেমে এসেছে।
লোকমান হোসেন বলেন, ‘অবস্থা স্বাভাবিক হবে না কেন? চাষিরা কয়দিন তাদের ফুলকপি, বাঁধাকপি গরুকে খাওয়াবে? এভাবে কত দিন চলে? ট্রাকমালিকেরা কয়দিন ট্রাক চালাবে না? বাধ্য হয়েই সবাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে শুরু করেছে। মানুষের ঘরে খাবার শেষ হয়ে গেলে তাকে তো বাজারে যেতে হবে। প্রয়োজনের তাগিদেই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।’
কারওয়ান বাজারে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি-উত্তর) বৈধ আড়ত আছে ৩৭৬টি। এর বাইরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ছয়টি প্লটের ওপরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ফলের আড়ত।
কারওয়ান বাজার ক্ষুদ্র আড়ত মালিক সমিতির হিসাবে, স্বাভাবিক সময়ে কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন সবজিবাহী ৪৫০ থেকে ৫০০ ট্রাক সারা দেশ থেকে আসে। এখন আসছে ৩৫০ থেকে ৪০০ ট্রাক। তবে কয়েক দিন আগেও ট্রাকের পরিমাণ ছিল বেশ কম। সে সময় গড়ে প্রতিদিন ট্রাক আসে ১০০ থেকে ১৫০টি। ওই সময় উত্তরবঙ্গ থেকে সবজিবাহী ট্রাক আসত হাতেগোনা।
‘এখন আর সে অবস্থা নেই। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর থেকেও প্রচুর সবজিবাহী ট্রাক আসছে।’ বললেন লোকমান হোসেন। তবে তিনি এ-ও বলেন, রাজশাহী ও নাটোর এলাকার পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। সে কারণে এসব জায়গা থেকে এখনো কম ট্রাক আসছে।
অবরোধের প্রথম এক মাসে সারা দেশ থেকে পণ্য না আসায় সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে সবজি না আসায় প্রতিদিনকার খরচটাও উঠেনি আড়তমালিকদের।
লোকমান হোসেন বলেন, বেচাকেনা হোক না হোক, কারওয়ান বাজারের আড়তগুলোতে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ আছে। সে হিসাবে, অবরোধের প্রথম এক মাসে আড়তমালিকদের অন্তত ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতায় আবারও যদি নাশকতা বেড়ে যায়, যানবাহন ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে আবারও তো ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এমন বিষয়ে জানতে চাইলে লোকমান হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির ব্যানারে আমরা ইতিমধ্যে মানববন্ধন করেছি। বিরোধী দলের হরতাল করার অধিকার আছে। কিন্তু আমার সবজিবাহী ট্রাকে পেট্রলবোমা মারার অধিকার নেই।’
অবরোধ-হরতাল বন্ধ না হলে সারা দেশের কাঁচাবাজার বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা কি আদৌ করা হবে? জানতে চাইলে লোকমান হোসেনের জবাব, ‘ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে একবারে মরে যাওয়াই ভালো। এতে যদি অবস্থার পরিবর্তন হয়।’

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন