default-image

চলমান রাজনৈতিক সহিসংতা বন্ধের দাবিতে পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা সাত ঘণ্টা প্রতীকী অনশন করেছেন। কর্মসূচি থেকে ব্যবসায়ী নেতারা শিগগিরই সমস্যার সমাধান করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় শ্রমিক ও মালিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে পুরো দেশ অচল করতে বাধ্য হবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।
কারওয়ান বাজারের বিজিএমইএ ভবনের সামনের ফুটপাতে অস্থায়ী মঞ্চে গতকাল শনিবার প্রতীকী অনশন কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করে পোশাকশিল্পের তিন সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ। বেলা ১১টায় কর্মসূচি শুরু হয়। এতে পোশাক ও বস্ত্র খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমিতির নেতারাও অংশ নেন। কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনশনের পুরোটা সময়ই বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। ফাঁকে ফাঁকে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন বাউলশিল্পীরা।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অনশন মঞ্চের প্রায় ২০ হাত দূরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। অবশ্য এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থলের পাশেই পুলিশের কয়েকজন সদস্য থাকলেও কে বা কারা ককটেল ছুড়েছে তাদের শনাক্ত করতে পারেননি তাঁরা।
এদিকে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি থেকে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি করা হয়। এতে বিজিএমইএ ছাড়াও ১৫টি ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতাদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেসব মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁদের জন্য সহায়তা আদায়ে সংগঠনের আরেক সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীকে প্রধান করে পৃথক কমিটি করা হয়েছে।
বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম এই দুই কমিটির নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, শিগগিরই কমিটির সদস্যরা বৈঠক করে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি দেবেন। সমাপনী বক্তব্যে রাজনীতিকদের উদ্দেশে সভাপতি বলেন, ‘আমরা যে অনশন করলাম সেটিকে মোটেও হালকাভাবে নেবেন না। এটা একটা বার্তা (মেসেজ)। তাড়াতাড়ি একটি সিদ্ধান্তে আসেন। সারা (টোটাল) দেশকে অচল করতে বাধ্য করবেন না।’ তিনি রাজনীতিকদের উদ্দেশে হাতজোড় করে বলেন, ‘নিরীহ মানুষকে আর মারবেন না। আমাদের পরিবেশ করে দিন, যাতে দেশে আরও ব্যবসা আসে।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিটিএমএর সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে তাদের ধিক্কার জানাই। এসব বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ একদিন একত্রিত হয়ে তাদের (রাজনীতিক) বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে।’
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য এত দিন আমরা পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্রয়াদেশ এনেছি। তবে বাংলাদেশে থাকা ক্রেতাদের প্রতিনিধিদের বর্তমানে নিরাপত্তার কারণে কারখানায় যেতে অনুমতি দিচ্ছে না। এ ছাড়া ক্রেতারা এখন আগামী এপ্রিলে ক্রয়াদেশ দেবে কি না, সেটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে।’
অনশন চলাকালে আরও বক্তব্য দেন বিকেএমইএর সহসভাপতি আসলাম সানি, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি রুস্তম আলী খান প্রমুখ।
এ ছাড়া অনশন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সাংসদ তারানা হালিম, এফবিসিসিআইর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, বারভিডার সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন, দোকান মালিক সমিতির চেয়ারম্যান এস এ কাদের, শ্রমিকনেতা নাজমা আক্তার, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক পানি পান করিয়ে ব্যবসায়ীদের অনশন ভাঙান।
এদিকে পোশাক ও বস্ত্র খাতের তিন সংগঠনের ব্যবসায়ীদের কর্মসূচি থাকলেও তাঁদের (পোশাক ও বস্ত্র কারখানার মালিক) উপস্থিতিই ছিল তুলনামূলক কম। এমনকি গত বৃহস্পতিবার মতবিনিময় সভায় যেসব পোশাক মালিকেরা অনশন কর্মসূচির পক্ষে মত দিয়ে বক্তব্য দেন তাঁদের অনেককেই গতকাল দেখা যায়নি।
ককটেল হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ: প্রতীকী অনশনে ককটেল হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের দুই সংগঠন এফবিসিসিআই ও ঢাকা চেম্বার। পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করে নিন্দা জানায়।
এফবিসিসিআই বলেছে, হরতাল ও অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেশের অর্থনীতিকে চরম বিপর্যয় এবং এক অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকা আজ রোববার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে ঢাকা চেম্বার মনে করে, বর্তমান অবস্থায় দেশের ব্যবসায়ী সমাজ শুধু নিজেদের শিল্পকারখানা রক্ষায় এই অনশন কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছে। এমন কর্মসূচিতে ককটেল হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন