default-image

পুরান ঢাকার বংশাল দেশের খুচরা ও পাইকারি সাইকেল বিক্রির অন্যতম বড় বাজার। এখানে যেমন দেশি সাইকেল পাওয়া যায়, আবার বিদেশি সাইকেলও মিলবে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই বাজারে সাইকেল বেচাকেনা চলে। বংশালের এই বাজারের সরু গলিতে ঢুকলেই সব সময়ই সাইকেলের বেলের ক্রিং ক্রিং শব্দ শোনা যায়। ইদানীং শহুরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাইকেল চালানোয় আগ্রহ বাড়ছে। মধ্যবিত্ত ঘরের বাচ্চাদের সাইকেল ছাড়া চলে না।

এই সাইকেল বেচাকেনা ও উৎপাদনেও করের হাত বসেছে। এখানে ভ্যাট প্রযোজ্য। সাইকেল ব্যবসায় উৎপাদনে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হয়। এই খাত থেকে ভ্যাট আদায়ে সব সময়ই নজর থাকে কর কর্মকর্তাদের।
এবার সাইকেল ব্যবসায় নজর পড়ল ভ্যাট গোয়েন্দাদের। সাইকেল তৈরি ও বেচাকেনায় ভ্যাট ফাঁকি হচ্ছে কি না, তা জানতে চান তাঁরা।

আজ বুধবার দুপুরে দেশের পুরোনো সাইকেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিরাজ সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজের বংশালের প্রধান কার্যালয়ে হানা দিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দারা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরেই প্রতিষ্ঠানটির ৫৪ কোটি টাকার বিক্রির তথ্য গোপনের প্রমাণ পেয়েছেন তাঁরা। ওই প্রতিষ্ঠানের বেচাকেনার যাবতীয় কাগজপত্র জব্দ করে নিয়ে এসেছেন গোয়েন্দারা।

বিজ্ঞাপন

আজ ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপপরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়েছে। সিরাজ সাইকেলের কারখানা গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের মুলাইদে। তবে বংশালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়। সেখানেই যাবতীয় বাণিজ্যিক হিসাবপত্র সংরক্ষণ করা হয়। সিরাজ সাইকেল দেশের পুরোনো সাইকেল সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানকে আমরা অনেক দিন ধরেই তাদের হিসাবপত্র দেওয়ার জন্য তাগিদ দিয়ে আসছি। বারবার তাগিদ দেওয়ার পর গত ২৮ নভেম্বর তারা কিছু হিসাব জমা দেয়। যেখানে ভুল তথ্য দেওয়া হয়।’ তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় থেকে জব্দ করা হিসাবপত্র অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ১ বছরে ৫৪ কোটি টাকার বিক্রির তথ্য গোপন করা হয়। এখন গত পাঁচ বছরের বিক্রির তথ্য যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সিরাজ সাইকেল বিক্রয় প্রদর্শন করেছে ১৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কিন্তু আটক করা নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও বাণিজ্যিক কাগজপত্র অনুযায়ী, এই বিক্রির হিসাব ৭৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

default-image

জানা গেছে, ভ্যাট গোয়েন্দারা এক বছর আগে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিয়মিত নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। এরপর বারবার প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় হিসাবপত্র দাখিল করতে তাগিদ দেওয়া হয়। নিরীক্ষা শুরুর এক বছর পর গত ২৮ নভেম্বর সিরাজ সাইকেল কর্তৃপক্ষ কিছু কাগজপত্র জমা দেয়। গোয়েন্দা দল শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে তথ্য যাচাই করে। গোয়েন্দাদের কাছে সিরাজ সাইকেল কর্তৃপক্ষের দাখিল করা তথ্য মনগড়া ও বানানো বলে প্রতীয়মান হয়। এমন প্রেক্ষাপটে আজ বংশালের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজ সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারবেন না। কাল (বৃহস্পতিবার) অফিসে গিয়ে যাবতীয় সংগ্রহ করে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
দেশে বছরে প্রায় ১৫ লাখ বাইসাইকেলের চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদার ৭০ শতাংশ মেটাচ্ছে আমদানি হওয়া বাইসাইকেল। আর বাকি ৩০ শতাংশের জোগান দিচ্ছে দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। যদিও তাদের রপ্তানি বাজারের দিকে বেশি নজর। সব মিলিয়ে দেশে বাইসাইকেলের বাজারের আকার প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার।

এই প্রতিষ্ঠান নিজেরা সিরাজ ব্রান্ডের সাইকেলের যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে এবং বাজারজাত করে। একই সঙ্গে তারা বিদেশ থেকে পূর্ণাঙ্গ সাইকেল আমদানি করে বাজারজাত করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে বছরে প্রায় ১৫ লাখ বাইসাইকেলের চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদার ৭০ শতাংশ মেটাচ্ছে আমদানি হওয়া বাইসাইকেল। আর বাকি ৩০ শতাংশের জোগান দিচ্ছে দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। যদিও তাদের রপ্তানি বাজারের দিকে বেশি নজর। সব মিলিয়ে দেশে বাইসাইকেলের বাজারের আকার প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার।

মন্তব্য করুন