বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এরই মধ্যে বেস্ট হোল্ডিংসের আবেদন অনুমোদন করেছে। জানা গেছে, সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকও এ আবেদন অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে লা মেরিডিয়ানের কাছ থেকে পাওনা টাকা ফেরতে ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।

জানা যায়, বেস্ট হোল্ডিংস গত ২৯ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে আবেদন করে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, করোনার মধ্যে পর্যটন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের একটি। তা সত্ত্বেও লা মেরিডিয়ান নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান এবং ব্যাংকের ঋণ ও বন্ডের সুদ প্রদান করছে। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের বাধ্যবাধকতা পূরণে শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নিয়েও রেগুলেটরি জটিলতার কারণে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে না পারায় ব্যাংকগুলোকে শেয়ারে বিনিয়োগের বিপরীতে ৬৫ শতাংশ হারে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিশ্চিত লভ্যাংশ (গ্যারান্টেড ডিভিডেন্ড) দেওয়ার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানির পক্ষে লভ্যাংশ এ বাধ্যবাধকতা পূরণ করা সম্ভব নয়। অন্য সময়ে ৩-৫ বছর এটা দেওয়া গেলেও করোনার কারণে ৬৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

এ কারণে বেস্ট হোল্ডিংসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের বিপরীতে ৬৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য ব্যাংকগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বন্ডের বিনিয়োগ ফেরত দেওয়ার সময় ৫ বছর বৃদ্ধি ও কুপন হার ৪ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বেস্ট হোল্ডিংস এ চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংকের এমডির কাছে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, বেস্ট হোল্ডিংসের প্রস্তাব বিবেচনার জন্য ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর ব্যাংকগুলো বেস্ট হোল্ডিংসের আবেদন বিবেচনা করা শুরু করেছে। এ বিষয়ে জানতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলিম উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৭৫২তম সভায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর বেস্ট হোল্ডিংসের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সভায় ব্যাংকটির বিনিয়োগ করা ১২৫ কোটি টাকা পরিশোধে বাড়তি তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই বন্ডের কুপন রেট (সুদহার) ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৬ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল থাকবে। আর মূলধন হিসাবে বিনিয়োগ করা ৩৭৫ কোটি টাকার ওপর বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে সুদ প্রদানের পরিবর্তে অভিহিত মূল্যের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে তা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও-পরবর্তী লক ইনের সময় পর্যন্ত। এ সিদ্ধান্তের ফলে অগ্রণী ব্যাংকের আয় কমে যাবে, তা নিয়ে কোনো নথি পর্ষদ সভায় দেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন অন্য তিন ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্ডে বিনিয়োগের পর এভাবে ছাড় দেওয়ার ঘটনা আগে ঘটেনি। এর ফলে যেসব বন্ডে ব্যাংক ও গ্রাহকেরা বিনিয়োগ করছে, তা-ও খেলাপি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অগ্রণী ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত তাদের চাপে ফেলেছে।

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রাহক আবেদন করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকেও চিঠি এসেছে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি।’ একই ধরনের মন্তব্য করেন জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুছ ছালাম আজাদও।

এর আগে গত ডিসেম্বরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছিল লা মেরিডিয়ান হোটেল কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের বিনিয়োগকে সরকারি বিনিয়োগ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি তালিকাভুক্তির এ উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নেয়। প্রতিটি শেয়ারের বিক্রয়মূল্য ঠিক করা হয়েছিল ৬৫ টাকা। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপত্তির কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। তাই এখন এসে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ ও লভ্যাংশ কমানোর পথে হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন