বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বছরের তুলনায় এবার ২০ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হতে পারে উল্লেখ করেন মাহমুদ পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বিক্রি ভালো হলেও বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্চ মাস থেকেই পণ্যের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানই দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। তবে যে দাম বেড়েছে, তা সামান্য। এটা বিক্রিতে বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

করোনার আগে ব্যবসা যে রকম ছিল, এখন আবার সেই অবস্থায় ফিরে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বছরের শেষে ১৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
সুমিত চক্রবর্তী, জ্যেষ্ঠ ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপক, ইগলু

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার আগের ব্যবসা ফিরে পেতে শুরু করেছে আইসক্রিম কোম্পানিগুলো। ২০২০ সালে আইসক্রিম বিক্রির মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই করোনার সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় এই খাতের ব্যবসায়ে মন্দাভাব দেখা দেয়। এখন বাজার আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

ইগলু আইসক্রিমের জ্যেষ্ঠ ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপক সুমিত চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু আইসক্রিম ক্রেতার একটি বড় অংশ তরুণ, সেহেতু স্কুল-কলেজ পুরোদমে শুরু হওয়ার পরে এই ব্যবসায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বলা যায়, আইসক্রিমের ব্যবসা এখন প্রায় ২০১৯ সালের মতোই; অর্থাৎ করোনার আগে ব্যবসা যে রকম ছিল, এখন আবার সেই অবস্থায় ফিরে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বছরের শেষে ১৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আইসক্রিমশিল্প আমদানিনির্ভর একটি খাত। এ খাতে ব্যবহৃত মিল্ক ফ্যাট, ফুলক্রিম দুধ ও ফ্লেভার—এসব কাঁচামাল ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মতো ডেইরিসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে আসে। সুতরাং বিশ্ববাজার অস্থির হওয়ায় আইসক্রিমপণ্যের কাঁচামালের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশের মতো। তবে দেশের বাজারে আইসক্রিমের দাম সমন্বয় হয়েছে পণ্যভেদে ৫ থেকে ২০ শতাংশের মতো।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতিমধ্যে বাজারে আমদানিনির্ভর কাঁচামালের সংকট দেখা দিয়েছে। আবার দেশের বাজারে বেড়েছে চিনির দাম। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে কাঁচামাল সময়মতো আসা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন ধরে রেখে বাজারে আইসক্রিমের সরবরাহ ঠিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মগবাজারের ইস্পাহানি বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়সংলগ্ন প্রতিদিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী তপন হালদার বলেন, ‘স্কুল খোলার আগে থেকে আইসক্রিমের বিক্রি বেড়েছে। আগে কোম্পানিগুলো থেকে সপ্তাহে তিন-চার হাজার টাকার আইসক্রিম নিতাম। এখন প্রতিদিন সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকার বেশি মাল রাখছি। বিক্রি বেড়েছে বলেই বেশি করে মাল রাখতে পারছি।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, আইসক্রিমশিল্পে পণ্য উৎপাদনে এককালীন বিনিয়োগ করা হলেও পণ্য পরিবহন ও বাজারজাতের জন্য প্রতিবছর বিনিয়োগ করতে হয়। পরিবহনের জন্য বিশেষায়িত ফ্রিজের গাড়ি ও সংরক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক রেফ্রিজারেটরের অধিকাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। করোনাকালে ব্যবসা মন্দা থাকায় এসব লজিস্টিক সুবিধার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

চলতি ২০২২ সালকে এই খাতের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর বছর বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন