বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসিকে সেবা খাতে বাজার প্রবেশাধিকার (সার্ভিস ওয়েভার) দিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া সব উন্নত দেশই একমত হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তারা এ বিষয়ে নিজ নিজ দেশের প্রতিবেদন তৈরি করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) পাঠাবে। এ ব্যাপারে কোন দেশ কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, প্রতিবেদনে সে বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে।
সচিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার সেবা খাতে বাণিজ্য প্রবেশাধিকার বিষয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা জানান। বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) পরিচালক মোস্তফা আবিদ খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গত ৫-৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিওর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে গত রোববার দেশে ফেরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ২৫টি দেশের প্রতিনিধি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সেবা খাতে বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি ডব্লিউটিওর যে ফোরামটি দেখে তার নাম হচ্ছে কাউন্সিল ফর ট্রেড ইন সার্ভিসেস।
ডব্লিউটিওর মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত কার্যকরের ওপর গুরুত্বারোপ করে এলডিসিগুলো গত জুলাইয়ে কাউন্সিল ফর ট্রেড ইন সার্ভিসেসে একটি সম্মিলিত অনুরোধপত্র পাঠায়। এবারের বৈঠকে ওই অনুরোধপত্রেরই পর্যালোচনা করা হয়। বাস্তবে এতে কী হলো—তা জানাতেই গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এবারের বৈঠকে দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি হচ্ছে, আগামী মার্চ মাসে কাউন্সিল ফর ট্রেড ইন সার্ভিসেসের আরেকটি বৈঠক হবে, তাতে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে এলডিসির পক্ষে। অন্যটি, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে উন্নত দেশগুলো তাদের প্রস্তুতিমূলক প্রতিবেদন দাখিল করবে ডব্লিউটিওতে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবারের বৈঠকে প্রায় সবাই বলেছে, ২০১১ সালের ডব্লিউটিওর মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলডিসিকে সেবা খাতে বাজার প্রবেশাধিকার দিতে তারা রাজি। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে কিছুটা নীরব। ‘তারা পক্ষেও বলেনি, বিপক্ষেও বলেনি।’ তবে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউটিওর মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকের আগেই সেবা খাতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাজারসুবিধার বিষয়টি কার্যকর হবে।
নানা শর্তের বেড়াজাল ডিঙিয়ে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি বা ব্যবসা করতে যেতে হয় বাংলাদেশসহ এলডিসির মানুষকে। এসব শর্ত শিথিল করার দাবিতে এলডিসিগুলো বহু দিন থেকেই দেন-দরবার করে আসছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। উন্নত দেশগুলো রাজি হয়েও পরে কার্যকর করে না।
সেবা খাতে বাজারসুবিধা পেলে বাংলাদেশের কী লাভ হবে—জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মানুষের যাতায়াত বাড়বে। তথ্যপ্রযুক্তি, হিসাব পেশা, নিরীক্ষা, পর্যটন খাতসহ প্রকৌশলী, ডাক্তার, স্থপতি, সেবিকা ও আইনজীবীরা বর্তমানের তুলনায় আরও সহজে এবং বেশি হারে উন্নত দেশে গিয়ে কাজ করতে পারবেন।’

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন