বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বহু ব্যবসায়ী নানাভাবে আয় গোপন করে কর ফাঁকি দেন। এ ছাড়া তাঁদের গোপন করা আয় বের করার কৌশল ও দক্ষতা কর কর্মকর্তাদের নেই।
সৈয়দ আমিনুল করিম সাবেক সদস্য, এনবিআর

এখানেই শেষ নয়, এনবিআরের হিসাবমতে, ১৯৯৮ সাল থেকে কাউছ মিয়া শীর্ষ করদাতাদের একজন। ১৯৫৮ সাল থেকে তিনি নিয়মিত কর দেন।

শুধু কাউছ মিয়া নন, ছয় বছর ধরে এনবিআরের প্রকাশিত তালিকায় ১৫ জন করদাতা পাওয়া গেছে, যাঁরা নিজ নিজ শ্রেণিতে প্রতিবারই সেরা করদাতা হন। এই তালিকায় জ্যেষ্ঠ নাগরিক, ব্যবসায়ী, নারী, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, স্থপতি, চিকিৎসকও আছেন। কাউছ মিয়া ছাড়া বাকিরা হলেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী; দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম; দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান; চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদী সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, চিকিৎসক ও সাংসদ প্রাণ গোপাল দত্ত; ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান খাজা তাজমহল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হায়দার হোসেন, পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, হোসনে আরা হোসেন, রুবাইয়াৎ ফারজানা হোসেন ও লায়লা হোসেন; পলমল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিস শিকদার ও জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে কর দিচ্ছে এমন ৮৪টি পরিবারকে ২০১৭ সালে ‘কর বাহাদুর’ পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেয় এনবিআর। তখন ট্রান্সকম গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত লতিফুর রহমান ও তাঁর পরিবার ‘কর বাহাদুর’ পরিবার হিসেবে সম্মাননা পায়। এবারের সেরা করদাতার তালিকায়ও প্রয়াত লতিফুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ট্রান্সকম গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমানের নাম রয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বড় ব্যবসায়ীদের নামে প্রায় কর নিয়ে বিরোধ মামলা থাকে। কর নিয়ে বিরোধ থাকলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সেরা করদাতা হিসেবে বিবেচনায় আনা হয় না। এ ছাড়া বড় ব্যবসায়ীদের নিজেদের খরচ যেমন বাড়ি, গাড়িসহ জীবনযাপনের খরচ অনেকাংশে প্রতিষ্ঠানের নামে দেখানো হয়। এভাবে তাঁরা নিজেদের আয় ও সম্পদ গোপন করেন। এ ছাড়া অনেকে কর ফাঁকি দেন বলে অভিযোগ আছে।

জানতে চাইলে এনবিআরের আয়কর বিভাগের সাবেক সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বহু ব্যবসায়ী নানাভাবে আয় গোপন করে কর ফাঁকি দেন। এ ছাড়া তাঁদের গোপন করা আয় বের করার কৌশল ও দক্ষতা কর কর্মকর্তাদের নেই। তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘২০০৫ সালের দিকে আমি কেন্দ্রীয় কর গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক ছিলাম। তখন কয়েকজন বড় ব্যবসায়ীর কর নথিতে বার্ষিক আয় দুই লাখ থেকে তিন লাখ টাকা দেখে তাঁদের ডেকে ছিলাম। এনবিআর ভবন থেকে নেমে মার্সিডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ গাড়িতে ফিরে যান তাঁরা। পরে আইএসডি স্কুলের অভিভাবকদের তালিকা সংগ্রহ করে দেখি, ওই ব্যবসায়ীরা সন্তানদের জন্য প্রতিবছর ১০ লাখ টাকা বেতন দেন।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন