টানা অবরোধ-হরতালে কাপড় বিক্রি কমে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার উপজেলার অধিকাংশ পাওয়ারলুম বা যন্ত্রচালিত তাঁতের কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এই দুই উপজেলায় ৩ হাজার ৮০০ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে আড়াইহাজারে ২ হাজার ৪০০ এবং সোনারগাঁয়ে ১ হাজার ৪০০ অবস্থিত। কারখানার মালিকেরা জানান, এসব কারখানার মধ্যে বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ কারখানা চালু আছে। বাকিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
হরতাল-অবরোধের কারণে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল কম থাকায় তাঁদের উৎপাদিত কাপড় কিনতে পাইকারেরা আসছেন না। আর কাপড় বিক্রি করতে না পেরে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা।
আড়াইহাজার উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার উপজেলায় দেশের সবচেয়ে বেশি পাওয়ারলুম কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার কাপড় নরসিংদীর বাবুরহাট ও রূপগঞ্জের গাউছিয়া হাটে পাইকারি বিক্রি হয়। হরতাল-অবরোধে কোনো পাইকার আসছেন না। দেশের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ কাপড় পাওয়ারলুম কারখানায় তৈরি হয়ে এই এলাকা থেকে বিক্রি হয়। এখান থেকে কাপড় সারা দেশে যায়।
সোনারগাঁয়ের বারদী বাজারের সিরাজ টেক্সটাইলের পরিচালক হুমায়ন কবির জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ না হলে কিছুদিনের মধ্যে সব পাওয়ারলুম কারখানাই বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবে লোকসান দিয়ে কোনোভাবেই আর ব্যবসা চালিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
শ্রমিকেরা জানান, কাপড় বিক্রি না হওয়ায় মালিকেরা উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন। এ কারণে শ্রমিকেরা বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন না। এরই মধ্যে কয়েক শ শ্রমিক বেকার হয়ে গেছেন। অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছেন। অনেকে অভাব-অনটনে পড়ে সংসার চালাতে পারছেন না।
মালিকেরা বলছেন, কাপড় বিক্রি কম হওয়ায় পাইকারেরা তাঁদের পাওনা টাকা পরিশোধ করছেন না। এতে ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে অনেক মালিক এখন আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন