বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
  • কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে ঋণ হিসাবও ৮২ হাজার ৭২২ থেকে কমে হয়েছে ৭৯ হাজার ৪৭৮টি।

  • কুটির ও ক্ষুদ্রশিল্প খাতে ঋণ হিসাব ২ হাজার ৪৩৩ থেকে কমে হয়েছে ২ হাজার ২০৪টি।

  • সেবা খাতেও ঋণ হিসাব ২৩ হাজার ৩০১ থেকে কমে হয়েছে ২২ হাজার ৯২২টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে ব্যাংক খাতে ঋণ হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৩, গত জুন শেষে যা কমে হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ৮১ হাজার ২৩৪। তবে ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ২১ হাজার ১০৯ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা।

তবে কিছু খাতে ঋণ হিসাব কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণও কমে গেছে। যেমন কৃষি যন্ত্রপাতিতে ঋণ ৫০২ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৪৮৭ কোটি টাকা। তেমনি ঋণ হিসাবও ৮২ হাজার ৭২২ থেকে কমে হয়েছে ৭৯ হাজার ৪৭৮টি। কৃষকদের সার ও কীটনাশকে ঋণ ৭৩ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৬৮ কোটি, ঋণ হিসাবও কমেছে প্রায় ৩ হাজার। এনজিওগুলোর মাধ্যমে দেওয়া কৃষিঋণ ৭ হাজার ২৩৮ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৭ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। বনায়নে ঋণ ১৪ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৭ কোটি, হিসাবও কমেছে প্রায় ১৭ হাজার।

তবে কেন কৃষি খাতের ঋণ হিসাব ও ঋণ কমে গেছে, তা পরিষ্কার নয়। জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী হোসেন প্রধানিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাধারণত ঋণ আদায় হয়ে গেলে হিসাব বন্ধ করা হয়। তবে এই সময়ে ঋণ আদায় প্রায় বন্ধ ছিল, এরপরও কেন হিসাব কমে গেল, তা বোধগম্য হচ্ছে না। এখন কৃষি খাতে নতুন নতুন ঋণ যাচ্ছে, হিসাবও বাড়ছে।’
জানা যায়, এ সময়ে কুটির ও ক্ষুদ্রশিল্প খাতে ঋণ হিসাব ২ হাজার ৪৩৩ থেকে কমে হয়েছে ২ হাজার ২০৪টি। সেবা খাতেও ঋণ হিসাব ২৩ হাজার ৩০১ থেকে কমে হয়েছে ২২ হাজার ৯২২টি।

এ সময়ে চলতি মূলধন ও বড় শিল্পের হিসাবও কমে গেছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পের হিসাব ৯০ হাজার থেকে কমে হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার। আর ঋণ ৪২ হাজার ৯১৪ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৩৯ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। ছোট উদ্যোক্তারা এমনিতেই ঋণ পাচ্ছেন না। এর মধ্যে ঋণ কমে যাওয়ার মানে হলো তাঁরা ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমাপ্রতিষ্ঠান ও সমবায় সমিতিতে ঋণ কমে গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ ৭ হাজার ৮২০ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৭ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা। বিমাপ্রতিষ্ঠানে ঋণ ৪০৭ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৩৫৮ কোটি টাকা। একইভাবে সব খাতের ভোক্তাঋণও কমে গেছে।

সাধারণত ঋণ আদায় হয়ে গেলে হিসাব বন্ধ করা হয়। তবে এ সময়ে ঋণ আদায় প্রায় বন্ধ ছিল, এরপরও কেন হিসাব কমে গেল, তা বোধগম্য হচ্ছে না।
আলী হোসেন প্রধানিয়া, এমডি, বিকেবি
করোনাভাইরাসের কারণে চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিস্তি না দিলেও কেউ নতুন করে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন না। গত জানুয়ারি থেকে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সুদ বাড়ছেই।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান খারাপ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো সেখান থেকে তহবিল ফিরিয়ে নিচ্ছে। একই অবস্থা বিমা ও সমবায় খাতেও।

জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ সময়ে কেউ নতুন করে ব্যবসায় আসছেন না। ফলে নতুন ঋণ হিসাব তেমন হচ্ছে না। পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরা ঋণ শোধ করছেন। যাঁরা ভালো ব্যবসায়ী, তাঁরা ছোট অঙ্কের ঋণ রাখতে চান না। এ জন্যই ঋণ হিসাব কমে যেতে পারে।
তবে এ সময়ে আমানত হিসাব ও আমানতের পরিমাণ বেড়েছে। গত মার্চে আমানত হিসাব ছিল ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা, জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১১ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা। একইভাবে আমানতের পরিমাণ ১২ লাখ ১০ হাজার ৪৯৭ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।
করোনাভাইরাসের কারণে চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিস্তি না দিলেও কেউ নতুন করে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন না। গত জানুয়ারি থেকে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সুদ বাড়ছেই।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন