বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রোববার দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজির পাইকারি মোকাম মহাস্থান হাট ঘুরে শীতকালীন সবজির দামের এই চিত্র দেখা গেছে।

মহাস্থান হাটে দেখা যায়, মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, শসা, গাজর, পালংশাক, লালশাক, পুঁইশাক, টমেটো, কাঁচা মরিচ, আগাম আলুসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির সমারোহ। ক্রেতা-বিক্রেতা, আড়তদার ও পাইকারদের হাঁকডাকে সরগরম সবজির হাট। কৃষকের এক হাত ঘুরে কিছু সবজি যাচ্ছে স্থানীয় খুচরা বাজারে। বেশির ভাগ সবজি পাইকারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় মোকামে।

কৃষক ও পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার মহাস্থান হাটে শীতকালীন শিম প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ১৮, গাজর ৩০, করলা ৫০, বাঁধাকপি ২০ (প্রতি পিস মাঝারি), ফুলকপি প্রতি কেজি ২৮, মুলা ৩০, নতুন আলু ৩৫, বেগুন ২০, টমেটো ৬০, শসা ৩০ ও পটোল ৫০ টাকায়।
অথচ এক সপ্তাহ আগে মহাস্থান হাটে শীতকালীন শিম প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ১৬, গাজর ২২, করলা ৬০, বাঁধাকপি ২০ (প্রতি পিস মাঝারি), ফুলকপি প্রতি কেজি ১৪, মুলা ১০, নতুন আলু ৪০, বেগুন ১৫, টমেটো ৪০, শসা ২০ ও পটোল ৪০ টাকায়।

রোববার মহাস্থান হাটে ১২ মণ নতুন পাকড়ি আলু বিক্রি করতে এসেছিলেন সদর উপজেলার মহিষবাথান গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘১০ শতক জমিতে আগাম আলুর চাষ করেছি। ফলন হয়েছে ১২ মণ। খেত থেকে আলু তুলে হাটে বিক্রি করে দাম পেয়েছি ১৪ হাজার টাকা। গত বছর এ সময় আগাম পাকড়ি আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৭০০-৮০০ টাকায়। কিন্তু এ বছর দাম ভালো পেলেও ফলন বিপর্যয় হয়েছে।’

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. দুলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। আরও ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আর ভালো দাম পেয়ে কৃষকেরাও খুশি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সবজির উৎপাদনে ঘাটতি হয়েছে। সরবরাহের ঘাটতির কারণেও দাম বেশি। তবে শীত যত ঘনিয়ে আসবে, সবজির সরবরাহ তত বাড়বে, তখন দামও কমবে। নতুন আলুর দাম বেশি হলেও, কয়েক দিনের মধ্যেই আমদানি বাড়লে দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

সবজির দাম বাড়তি কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মহাস্থান হাটের আড়তদার জাহিদুল ইসলাম বলেন, এবার কয়েক দফায় পরিবহন বন্ধ থাকায় চারাসংকট সৃষ্টি হয়। সে জন্য শীতকালীন সবজির চাষ অন্য বছরের তুলনায় এমনিতেই কম হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে কিছু সবজির খেত নষ্ট হয়েছে। এসব কারণে সবজির দাম অন্য বছরের তুলনায় বেশি। অন্য বছর এ সময় হাটে প্রতিদিন ১০০ ট্রাক সবজি আমদানি হতো। এবার আমদানি হচ্ছে গড়ে ১০ ট্রাক। সরবরাহের ঘাটতির কারণে ফুলকপি, টমেটো, মুলাসহ শীতকালীন প্রায় সব শাকসবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে।

কিন্তু জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য আড়তদার আমদানি হ্রাসের দাবি করলেও, বাজার ঘুরে তার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি; বরং বাজারে সবজির আধিক্যই দেখা গেছে। এর বাইরে অবশ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য আছে। তাঁদের কারণে দাম আরও বেড়ে যায়।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন