হাতিরঝিলে ভাঙার অপেক্ষা, উত্তরায় নতুন ভবন উদ্বোধন

বিজ্ঞাপন
default-image
>
  • বিজিএমইএকে বর্তমান ভবন ছাড়তে হবে ১২ এপ্রিল
  • কার্যালয় স্থানান্তরে নির্মাণাধীন ভবনের উদ্বোধন করা হয়
  • ১৩ তলা ভবনের ৬ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ
  • ১৫ এপ্রিল নতুন ভবনের দাপ্তরিক কাজ শুরু
  • ভবনের পুরো কাজ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনে

উত্তরায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্মাণাধীন নতুন ভবন গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছেন। ১৫ এপ্রিল থেকে নতুন ভবনে দাপ্তরিক কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

জমির স্বত্ব না থাকা ও জলাধার আইন লঙ্ঘন করায় হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে ভেঙে ফেলতে হবে। সে জন্য ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবনটি ছাড়তে হবে। এই ভবনের কার্যক্রম সরিয়ে নিতে উত্তরা তৃতীয় পর্বে ১১০ কাঠা জমি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছ থেকে দুই বছর আগে অর্ধেক মূল্যে জমি কিনে বিজিএমইএ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে গতকাল দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিজিএমইএর নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএর বর্তমান (হাতিরঝিল) ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় বারবার বলেছিলাম, আপনারা খালের মধ্যে ভবন করবেন না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা দেখলাম, যখন আমরা ক্ষমতায় ছিলাম না, তখন খালের ভেতরে ভবন নির্মাণ করা হলো। ব্রিজ তৈরি করে তার ওপর দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হলো।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হাতিরঝিলের মতো চমৎকার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে সংযোগ স্থাপন হয়েছে। ৬৮টি মামলা লড়াই করে হাতিরঝিল করা হয়েছে। সেখানে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটি হাতিরঝিলের সৌন্দর্যে বাধা দিত। বিজিএমইএর কার্যক্রম নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হলে হাইকোর্টের রায় মানা হবে। তিনি তৈরি পোশাকশিল্পকে কর ছাড় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে খাতটির উদ্যোক্তাদের নতুন বাজার খোঁজা ও বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে জোর দিতে অনুরোধ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ও আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ। অন্যদিকে উত্তরায় নির্মাণাধীন বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সংগঠনের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, সহসভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ, এস এম মান্নান, মোহাম্মদ নাছির ও মাহমুদ হাসান খান, মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বিজিএমইএর বর্তমান ভবন নির্মাণের পর বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে কথা বলেছেন। পরে সেটি উচ্চ আদালতে যায়। সর্বশেষ আদালত ভবনটি ছাড়তে আমাদের যে সময় দিয়েছেন, তা ১২ এপ্রিল শেষ হবে। সে জন্য আমরা দ্রুততার সঙ্গে আমাদের মান-সম্মান রক্ষার্থে বিজিএমইএর কার্যক্রম উত্তরায় নতুন ভবনে স্থানান্তরিত করছি। ১২ এপ্রিলের পর আমরা এখানে অফিস করব।’ নতুন ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বিজিএমইএর সভাপতি আরও বলেন, ‘উত্তরার ভবনটি একটি অনন্য উদাহরণ। কারণ, আর কেউ আমাদের বলতে পারবে না যে অন্যায়ভাবে কোথাও আছি আমরা। যদিও আমরা কারওয়ান বাজারে অন্যায়ভাবে ছিলাম—সেটি আমি কখনো বিশ্বাসও করি না, স্বীকারও করি না। সরকার আমাদের জায়গা দিয়েছিল। আমরা সেখানে ভবন নির্মাণ করেছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আগামী এক বছরের জন্য পোশাক রপ্তানিতে ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দাবি করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়নের পরও ক্রেতাদের কাছ থেকে আমরা পোশাকের বাড়তি দাম পাচ্ছি না। সে জন্য আমাদের প্রতিটি কারখানা লোকসানে চলছে। তাই সব মালিকের পক্ষ থেকে আগামী এক বছরের জন্য ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করছি। আমরা কথা দিচ্ছি, তার বিনিময়ে দশ গুণ রিটার্ন দেব।’

উত্তরায় বিজিএমইএর নতুন ভবনে দুটি টাওয়ার হবে। সেখানে দুটি বেসমেন্ট ছাড়া ১৩ তলা থাকবে। ভবনে মোট জায়গার (স্পেস) পরিমাণ ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৩ বর্গফুট। তার মধ্যে ৩ লাখ বর্গফুট নিজেদের ব্যবহারের জন্য রাখছে বিজিএমইএ। বাকি জায়গা ২৩টি প্রতিষ্ঠান কিনেছে। তবে এখনো ৫০ হাজার বর্গফুট জায়গা বিক্রির জন্য আছে। ভবনটিতে ৪০ হাজার বর্গফুটের প্রদর্শনী কেন্দ্র, ৭৫০ জন মানুষ ধারণক্ষমতার আধুনিক মিলনায়তন, দুটি সেমিনার কক্ষ এবং সংগঠনের সদস্যদের জন্য সুইমিংপুল, হেলথ ক্লাবসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এখন পর্যন্ত ভবনের ছয়তলা নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ভবনের পুরো নির্মাণকাজ শেষ হবে আগামী বছরের জুনে। ভবনের পাশেই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ চলছে।

ইতিমধ্যে বিজিএমইএর এক নোটিশে ১৫ এপ্রিল থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতা সনদ বা ইউডিসহ অন্যান্য সেবা নিতে সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে উত্তরায় নতুন ভবনে যেতে অনুরোধ করেছে। দপ্তর স্থানান্তরের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন বিজিএমইএর কর্মকর্তারা।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে, যা ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়। রায়ে বলা হয়, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস ও পরে সাত মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ গত বছর নতুন করে এক বছর সময় পায় সংগঠনটি। সে সময় তারা মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন