বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এত কমিটি, এত সভা। অথচ ইউনিয়নে প্রয়োজনীয় লোকবল, বাজেট নেই। ফলে নিয়মিত সভা করা অনেক সময় সম্ভব হয় না।
মোকছেদুর রহমান, সচিব, চন্দনপাট ইউপি

ইউপি আইনের ৪৫ ধারায় পরিষদের কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য ১৩টি বিষয়ে স্থায়ী কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এসব কমিটির সুপারিশ পরিষদের সভায় বিবেচনা করে গ্রহণ করার বিধানও রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর করা গেলে একদিকে পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পরিষদের সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়লে চেয়ারম্যানের একচ্ছত্র ক্ষমতার ব্যবহারও কমবে।

যেসব বিষয়ে স্থায়ী কমিটি গঠন করতে হয় সেগুলো হচ্ছে অর্থ ও সংস্থাপন; হিসাব নিরীক্ষা ও হিসাব রক্ষণ; কর নিরূপণ ও আদায়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা; কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কাজ; পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি; আইনশৃঙ্খলা রক্ষা; জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন; স্যানিটেশন, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন; সমাজকল্যাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা; পরিবেশ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ; পারিবারিক বিরোধ নিরসন, নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সংস্কৃতি ও খেলাধুলা।

চন্দনপাট ইউপির ১৩টি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো পাঁচ থেকে সাত সদস্যবিশিষ্ট। এসব কমিটিতে পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার গণমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন। নিয়মিত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণের জন্য আলাদা আলাদা ফাইল খোলা হয়েছে।

প্রতিটি স্থায়ী কমিটিকে দুই মাসে একবার সভা করতে হয়। সে হিসাবে ১৩টি কমিটির বছরে ৭৮টি সভা হয়। সভার আলোচ্যসূচি, কার্যবিবরণী লেখাসহ সাচিবিক সব দায়িত্ব পালন করতে হয় পরিষদের সচিব ও হিসাব সহকারীকে। কিন্তু নিয়মিত কাজের বাইরের এ কাজের জন্য আলাদা কোনো ভাতা বা সম্মানীর ব্যবস্থা নেই। তাই এই দায়িত্ব পালনে তাঁদের আগ্রহ কম।

চন্দনপাট ইউপির সচিব মোকছেদুর রহমান বলেন, স্থায়ী কমিটির সভা করার জন্য কোনো বাজেট নেই। এত কমিটি, এত সভা। অথচ প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। ফলে নিয়মিত সভা করা, সেগুলোর বিবরণী লেখা অনেক সময় সম্ভব হয় না।

কর পুনর্মূল্যায়ন ও ইউনিয়ন পরিষদের এসডিজিবান্ধব পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহযোগিতা করেছে ‘কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার (ইএএলজি)’ প্রকল্প। দেশের স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ) ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ৬৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকার এই প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও ডেনমার্ক দূতাবাস।

ফরিদপুর, চাঁদপুর, রাজশাহী, খুলনা, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ, রংপুর, নেত্রকোনা ও কক্সবাজার জেলার ১৮টি উপজেলা এবং ২৫১টি ইউনিয়ন পরিষদে ইএএলজি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি, স্থানীয় সেবার মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করা। তবে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদ ইএএলজি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত না, সেখানে পরিষদের স্থায়ী কমিটি গঠনের বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে অনেক ইউনিয়ন পরিষদে এসব স্থায়ী কমিটির তেমন কার্যক্রম নেই।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্প থেকে কিছু ভালো চর্চা বাস্তবায়ন উপযোগী করে দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা সরকার কাজে লাগায় না। এসব ভালো চর্চাকে শুধু আইনে যুক্ত করলে হবে না, বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা–ও দেখতে হবে। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন