বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিন্তু ৩৫ ঘণ্টার কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হলেও দেশের আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে বলে বন্দর ব্যবহারকারীরা মনে করেন।

কর্মবিরতির সময় কোনো ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও প্রাইম মুভার ট্রেইলার না আসায় জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো–নামানো এবং বন্দর থেকে পণ্য খালাস করা যায়নি। এই সময় শুধু কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে নিজস্ব ট্রাকে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া দুটি টার্মিনালে বন্দরের যন্ত্রপাতি দিয়ে জেটি থেকে চত্বরে কিছুসংখ্যক কনটেইনার আনা–নেওয়া করা হয়েছে।

কর্মবিরতির প্রথম দিন মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত বেসরকারি ডিপো থেকে রপ্তানি পণ্যের কোনো কনটেইনার বন্দরে আনা যায়নি। রপ্তানি পণ্যের ৯০ শতাংশ চট্টগ্রামের ডিপোগুলোতে কনটেইনারে ভরে বন্দরে অপেক্ষমাণ জাহাজে তুলে দেওয়া হয়।

ডিপো মালিক সমিতির মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, কর্মবিরতির পুরো সময় রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার বন্দরে পাঠানো যায়নি। এ কারণে ডিপোতে এখন রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দুটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ১ হাজার ১৬০টি কনটেইনার নিয়ে সিঙ্গাপুর–কলম্বো বন্দরে অপেক্ষমাণ ইউরোপ–আমেরিকামুখী বড় জাহাজে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিপো থেকে কনটেইনার না আসায় তা আর হয়নি।

দুটি জাহাজের একটি এমভি এ এস সিসিলিয়া। জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি ক্রাউন নেভিগেশন কোম্পানির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহেদ সরওয়ার বলেন, ‘এক–দুদিন বিলম্বের কারণে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর থেকে ইউরোপ–আমেরিকামুখী বড় জাহাজে তুলে দেওয়া নিয়ে সংশয় আছে। ৩৫ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যে ক্ষতি হয়েছে, করোনায়ও এত বড় ক্ষতির শিকার হইনি আমরা।’

বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, কর্মবিরতির কারণে বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। এটা পুষিয়ে নিতে কয়েক দিন সময় লাগবে।

একটা কর্মবিরতিতে এমন ক্ষতি মেনে নিতে নারাজ ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে সীমিত অবকাঠামো নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর যেখানে আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্য পরিবহনে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে এই কর্মবিরতি পুরো বন্দরের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বন্দর ও স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকার অর্থ দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হওয়া। যেকোনো কর্মসূচি থেকে বন্দরের কার্যক্রম বাইরে রাখা উচিত। না হলে ক্ষতির দায়ভার সবার ওপর পড়বে।

পণ্য পরিবহন মালিক ও ট্রাকচালক শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে বেনাপোল ট্রাক মালিক সমিতি ও ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি সমর্থন দেয়। এতে স্থলবন্দরটিতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আমদানি-রপ্তানি পণ্য নিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অন্তত দুই হাজারের বেশি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। এতে পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার পথচারীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানতে চাইলে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক মামুন কবীর তরফদার বলেন, ‘বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। গত মঙ্গল ও বুধবার—এই দুই দিনে বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে কোনো পরিবহন ছেড়ে যায়নি। এ কারণে বন্দরের পণ্যের তীব্র জটের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ফলে কাল (আজ) বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিকভাবে পণ্য পরিবহন হবে বলে আশা করছি।’

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, মাসখানেক ধরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে হঠাৎ পণ্য রপ্তানি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে প্রতিদিন যেখানে ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হতো, সেখানে এখন তা বেড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ ট্রাকে উন্নীত হয়েছে। এদিকে ভারতের পেট্রাপোল প্রতিদিন ২১৫ ট্রাকের বেশি পণ্য গ্রহণ করছে না। যে কারণে বন্দরে জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রেও। বেনাপোলের ব্যবসায়ীদের চাহিদামতো পণ্য ছাড় দিতে পারছে না পেট্রাপোল বন্দর। এ জন্য কয়েক হাজার ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে ওপারে দাঁড়িয়ে আছে। এ অবস্থায় কর্মবিরতি কর্মসূচি বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিম
উদ্দীন গাজী বলেন, ‌‘সরকার আমাদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়ায় কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন আজ (গতকাল) বুধবার বিকেলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন