default-image

লোকসানের বোঝা কমাতে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপ বেক্সিমকোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো সিনথেটিকস। যাত্রা শুরুর ৩০ বছর পর এসে লোকসান থেকে বাঁচতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা বিনিয়োগকারীদের জানিয়ে দিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি শেয়ারবাজার থেকেও কোম্পানিটিকে তালিকাচ্যুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে কোম্পানিটির শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য উদ্যোক্তাদের অংশ বাদে বাকি সব শেয়ারই বাজার থেকে পুনরায় কিনে (বাইব্যাক) নেবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে স্বেচ্ছায় তালিকাচ্যুত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদনও করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারছে না। এ কারণে মন্দ মানের কোম্পানি হিসেবে এটি দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত।

বিজ্ঞাপন

বিএসইসি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৯ কোটি টাকায় শেয়ারবাজার থেকে কোম্পানিটির সব শেয়ার (উদ্যোক্তা অংশ ছাড়া) পুনরায় কিনে নিতে সম্মত হয়েছে বেক্সিমকো কর্তৃপক্ষ। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোম্পানিটির শেয়ার বাইব্যাক করা হবে। এ জন্য ব্যাংকের বিশেষায়িত ‘এস্ক্রু’ হিসাবে আগেই ওই টাকা কোম্পানির পক্ষ থেকে জমা করা হবে। এরপর শেয়ারধারীদের কাছ থেকে শেয়ার ফেরত নিয়ে তার বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের হিসাবে প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। ব্যাংকের এস্ক্রু হিসাবে টাকা রাখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি ছাড়া ওই হিসাব থেকে কোনো অর্থ লেনদেন করা যায় না। এ কারণে এস্ক্রু হিসাবের মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ারের বাইব্যাক কার্যক্রম সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা যায়।

বিজ্ঞাপন

দেশের বিদ্যমান কোম্পানি আইন অনুযায়ী শেয়ার বাইব্যাকের আইনগত কোনো বিধান নেই। একইভাবে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্তি বিধিমালায় স্বেচ্ছায় তালিকাচ্যুতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়মও নেই। এ কারণে বেক্সিমকো সিনথেটিকস কর্তৃপক্ষ বিএসইসির কাছে তালিকাচ্যুতির বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেছে। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক আলোচনার ভিত্তিতে একটি ‘প্যাকেজ’ প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেখানে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে কোম্পানিটির শেয়ার বাইব্যাক ও এক বছর সময় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে শেয়ার ফেরত নেওয়ার বিষয়টি প্রায় এক প্রকার চূড়ান্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারই অংশ হিসেবে গতকাল থেকে শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির লেনদেন স্থগিত করে দেয় বিএসইসি। সর্বশেষ সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৮ টাকা ৪০ পয়সা।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এমনকি বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানিটির পক্ষে নিযুক্ত জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট পিআর জানায়, বিএসইসিকে দেওয়া চিঠির জবাব না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে, গতকাল দুই স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে যে তথ্য প্রকাশ করা হয় তাতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে কোম্পানিটি ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ায় ওই বছর থেকে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। এর আগে সর্বশেষ ২০১২ আর্থিক বছরের জন্য কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

মন্তব্য পড়ুন 0