default-image

প্রথম আলো: ক্রেডিট কার্ড কি এখনো শুধু অভিজাত লোকেরাই ব্যবহার করে?

খাজা শাহরিয়ার: শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী ক্রেডিট কার্ড একটি দ্রুত বর্ধনশীল আর্থিক সেবা। আগে ধারণা ছিল, শুধু অভিজাত শ্রেণি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করবে। আমরা সেই ধারণা ভেঙে ফেলেছি। বর্তমানে মধ্যবিত্তের পাশাপাশি নিম্নআয়ের গ্রাহকেরাও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন। নগদ অর্থের চেয়ে ক্রেডিট কার্ড বহন অনেক বেশি সুবিধাজনক। এটি ছুটির দিনে, ব্যাংকিং সময়ের পরে জরুরি নগদ উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে। সরকারও বর্তমানে নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থায় আসার জন্য মানুষকে উৎসাহ দিচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশে ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু মানুষের মধ্যে তো ক্রেডিট কার্ড নিয়ে একধরনের ভীতি কাজ করে। সেটি কেন?

খাজা শাহরিয়ার: ক্রেডিট কার্ডে ৪৫ দিন পর্যন্ত সুদমুক্ত সুবিধা রয়েছে। গ্রাহকেরা যদি নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করেন, তখনই সুদ নেওয়া হয়। তবে সুদের হারও আগের চেয়ে কমানো হয়েছে। তা ছাড়া আমরা সব সময় গ্রাহকদের মোবাইলে খুদে বার্তা ও ই-মেইলের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের তারিখ স্মরণ করিয়ে দিই। গ্রাহকেরা যদি নির্ধারিত তারিখে অর্থ পরিশোধ করেন, তাহলে উদ্বেগের কিছু নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের তুলনায় সুদের হার কম। এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন, অন্য যেকোনো ঋণের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডের পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় সুদহার কিছুটা বেশি।

ক্রেডিট কার্ডকে জনপ্রিয় করতে আপনাদের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

খাজা শাহরিয়ার: আমরা আমাদের সব সেবা গ্রাহকের কথা মাথায় রেখে নকশা করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা শিখা নামেও নারীদের জন্য একটি কার্ড চালু করেছি। আমাদের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন যেমন ডিজিটাল চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে নতুন কার্ডের সদস্যদের অন বোর্ডিং করছি। শিগগিরই আমরা উন্নত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও চ্যাট বট চালু করব। আমরা সারা দেশে বিশেষ করে জেলা শহরে আমাদের ক্রেডিট কার্ডের সেবা প্রসারের পরিকল্পনা করছি।

কেন এখনো এ সেবা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেল না? কেন এটি বড় শহরকেন্দ্রিক?

খাজা শাহরিয়ার: আপনি ঠিকই বলেছেন। দেশজুড়ে কার্ড ব্যবসা বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায় এটি এখনো বড় শহরকেন্দ্রিক। লাইফস্টাইল, মুদি, ইলেকট্রনিকসহ অন্যান্য দোকান ও বিভিন্ন হোটেলে লংকাবাংলার ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। বেশির ভাগ ব্র্যান্ডের দোকানপাট বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক। তাই ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও বড় বড় শহরকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এখন অবশ্য করোনার কারণে ই-কমার্স জনপ্রিয় হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে সারা দেশে পণ্য যাচ্ছে। আমরা আমাদের কার্ডের গ্রাহকদের জন্য শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে প্রচুর মূল্যছাড় দিচ্ছি। জেলা ও উপজেলা শহরে পিওএস টার্মিনালের অভাব রয়েছে। এ কারণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবসা সম্প্রসারিত হচ্ছে না। এ ছাড়া পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলো গ্রামাঞ্চলে পিওএস সরবরাহ করতে আগ্রহী হচ্ছে না।

আপনি কি মনে করেন এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কোনো উদ্যোগ দরকার?

খাজা শাহরিয়ার: কার্ড ব্যবহার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমেই কেবল সেবাটি গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি পরামর্শ দেয়, গ্রামাঞ্চলে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ পিওএস টার্মিনাল স্থাপন করতে হবে, তাহলেই এ খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি হবে।

বিজ্ঞাপন

লংকাবাংলার কার্ডে কী ধরনের সুবিধা আছে?

খাজা শাহরিয়ার: লংকাবাংলার ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে ইলেকট্রনিকস, আসবাব, লাইফস্টাইল, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি খাতের ১ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান অংশীদার হিসেবে আছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কার্ড ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা কিনলে মূল্যছাড়ের সুবিধা পান গ্রাহকেরা। তা ছাড়া ৫০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান থেকে শূন্য সুদে ৩৬ মাস পর্যন্ত কিস্তিতে পণ্য কিনতে পারেন আমাদের কার্ডের গ্রাহকেরা। তা ছাড়া ঢাকা বিমানবন্দরের বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের এমটিবি এয়ার লাউঞ্জ এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের মধুমতি এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জে আমাদের টাইটানিয়াম ও প্ল্যাটিনাম কার্ডের গ্রাহকেরা বিনা মূল্যে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ সুবিধা পান।

ঈদ সামনে রেখে আপনাদের গ্রাহকদের জন্য নতুন কী সুবিধা দেবেন?

খাজা শাহরিয়ার: ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করে গ্রাহকেরা একধরনের স্বাচ্ছন্দ্য পান। আমরা বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে সব সময় বিশাল মূল্যছাড় ও ক্যাশব্যাক সুবিধা দিয়ে থাকি। চলতি বছর মহামারির মধ্যেও নববর্ষ, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য নানা সুবিধা সাজিয়েছি।

বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন