default-image

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে আছে বলে মনে করেন দেশের ৭১ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা। এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কেমন হবে, তা-ও ভেবেছেন ব্যবসায়ীরা। ৪১ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার মাঝারি মানের। আর ২৬ শতাংশ ব্যবসায়ীর ধারণা, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দুর্বল। মাত্র ৪ শতাংশ ব্যবসায়ীর মতে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) ‘কোভিড-১৯ ও বাংলাদেশে ব্যবসায় আস্থা: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে’ শীর্ষক এক জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার এক ওয়েবিনারে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে দেশের ২৭ জেলার ৫০২টি অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপটি করা হয়।

সানেমের নতুন জরিপে বলা হয়েছে, ছোট ব্যবসায়ীদের ৩৩ শতাংশ মনে করেন, এখনো তাঁদের ব্যবসা পুনরুদ্ধার শুরু হয়নি। বড়দের মাত্র ২২ শতাংশ এমনটা মনে করছেন। আর মাঝারি ব্যবসায়ীদের ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের পুনরুদ্ধার হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
জরিপে অংশ নেওয়া ১৩টি খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মাত্র তিন খাতে আস্থার মাত্রা ৫০ পয়েন্ট পেরিয়েছে। এগুলো হলো ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, খুচরা ব্যবসা, রেস্তোরাঁ, তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুতগতিতে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। আর চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাইকারি ব্যবসা, পরিবহন ও আবাসিক খাতের পুনরুদ্ধার তুলনামূলক ধীরগতির।

সানেম মনে করে, করোনা সংকট মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য একটি কার্যকর প্রণোদনা প্যাকেজ দরকার।

ব্যবসায় আস্থা ফিরছে

সানেম বলছে, গত এপ্রিল-জুনের তুলনায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে। কিন্তু কোভিড-১৯ আসার আগে যে ধরনের আস্থা ছিল, সেটা এখনো ফেরেনি। গত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ব্যবসায়ীদের আস্থার মাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট, যা জুলাই-সেপ্টেম্বরে বেড়ে প্রায় ৪৮ পয়েন্টে উঠেছে। আর চলতি অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে আস্থার মাত্রা আরও বেড়ে দাঁড়াবে ৫৫ শতাংশের মতো। আস্থার মাত্রা ৫০ পয়েন্ট পেরোলেই তা ভালো বলে ধরে নেওয়া হয়।

জরিপে অংশ নেওয়া ১৩টি খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মাত্র তিন খাতে আস্থার মাত্রা ৫০ পয়েন্ট পেরিয়েছে। এগুলো হলো ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আস্থার মাত্রা ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে—তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, হালকা প্রকৌশল, পাইকারি ব্যবসা, খুচরা ব্যবসা, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও আবাসন ব্যবসা।

করোনায় ছোট ব্যবসায়ীরা নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারছেন না। বড় প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেন হিসাববিদেরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পমালিকদের অনেকে আবেদন প্রক্রিয়াও জানেন না।
ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘ব্যবসায় আস্থা আনতে এই খাতে সংস্কার জরুরি। আমরা সবাই জানি কোথায় সংস্কার করতে হবে। দীর্ঘদিন এসব খাতে সংস্কার হয়নি।’

প্রণোদনার টাকা পায়নি ৭২% প্রতিষ্ঠান

জরিপ বলছে, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা পায়নি ৭২ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। মাত্র ১৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সরকারের এই সুবিধা পেয়েছে। বাকি ৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা তো প্যাকেজ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যই জানেন না। ছোটদের তুলনায় বড়রা প্রণোদনার টাকা প্রাপ্তিতে এগিয়ে আছে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খানের মতে, করোনায় ছোট ব্যবসায়ীরা নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারছেন না। বড় প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেন হিসাববিদেরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পমালিকদের অনেকে আবেদন প্রক্রিয়াও জানেন না।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সহজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি মালিহা এম কাদির, পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0