এলডিসি উত্তরণে জাতিসংঘের সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ। এটা যেমন একদিকে মর্যাদার, তেমনি অন্যদিকে ঝুঁকিরও। উত্তরণের পর বাংলাদেশ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা হারাবে। আবার নতুন কিছু পাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কী ঘটবে বা বাংলাদেশের করণীয় কী, তা নিয়ে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ী মো. ফজলুল হক।
default-image

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে ২০২৬ সালে। এ জন্য সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট (সিডিপি)। কিন্তু এলডিসি থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রে পোশাক খাতের যে বড় অবদান আছে, তা খুব একটা স্বীকার করা হয় না।

এলডিসি থেকে বের হলে দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি কম হওয়া–বিষয়ক সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে আলোচনা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। সেটা অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা নিয়ে। এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি সুবিধা মিলবে না, যদিও বাংলাদেশের জন্য তা বহাল থাকবে ২০৩১ সাল পর্যন্ত। সে হিসাবে বাংলাদেশ সময় পাচ্ছে আরও ১০ বছর।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কসুবিধা নেই। চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি ও শুল্ক নিয়ে তাই আলোচনাও নেই। তবে একটি কথা উল্লেখ করতে চাই, ইইউর শুল্কমুক্ত সুবিধা কিন্তু বিদেশি ক্রেতারাই নিয়ে নেন। তবে শুল্কসুবিধা বন্ধ হলে ইইউর ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনা বন্ধ করে দেবেন, এটা ভাবার কারণ নেই।

সে ক্ষেত্রে আমাদেরও করণীয় আছে। আমাদের গুণগত মানসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাক উৎপাদন করতে হবে। আমরা অদক্ষ থাকব কত দিন? ৪০ বছর যথেষ্ট সময়। এই সময়েও সক্ষম হতে না পারলে ব্যবসাই ছেড়ে দেওয়া উচিত।

তবে চ্যালেঞ্জ যে নেই, তা নয়। ইইউর বাজারে বাংলাদেশের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী এখন ভিয়েতনাম। ইইউর সঙ্গে ভিয়েতনামের এমন বাণিজ্য চুক্তি হয়ে আছে যে আমাদের যখন শুল্ক দিয়ে ইউরোপের বাজারে ঢুকতে হবে, ভিয়েতনাম তখন অনেক পণ্যই শুল্কমুক্তভাবে ইউরোপে রপ্তানি করতে পারবে। এটা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। আমরা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যসুবিধা (জিএসপি) প্লাস সুবিধা পেতে পারি। সে জন্য নীতিনির্ধারকদের তৎপর হতে হবে। ভিয়েতনাম যে ধরনের চুক্তি করেছে ইইউর সঙ্গে, আমরা তা করতে পেরেছি শুধু ভুটানের সঙ্গে। আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ইত্যাদি দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। এলডিসি থেকে বের হলে বাংলাদেশের যে সুনাম হবে, তা দিয়েও কাজটা করা যায়। তবে ভালো উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় আমাদের আমলাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃঢ় পদক্ষেপ থাকলে অবশ্য তাঁরা কথা শুনবেন। সব মিলিয়ে মনে করি, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে শুল্কসুবিধার জন্য তো আর অগ্রযাত্রা থামিয়ে রাখা যাবে না।

মো. ফজলুল হক:সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)

বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন