default-image

করোনার আগে আমরা দেখতে পেয়েছি, কর্মসংস্থানের প্রবণতা কমেছে। দারিদ্র্য কমার হারও আগের চেয়ে কমেছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হলো ভোগ-ব্যয় বাড়ানো। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপের যে তথ্য, তার ভয়ংকর দিক হলো ভোক্তাদের কাছে টাকা নেই। তারা আগের চেয়ে কম ভোগ করছে।

বিবিএসের জরিপের ফলাফলে যেসব তথ্য এসেছে, তাতে সরকারের উদ্যোগগুলো নিয়ে চার ধরনের প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রথমত, করোনার কারণে নতুন করে গরিব হওয়া মানুষের জন্য কী করছি। দ্বিতীয়ত, করোনার কারণে বেকার বেড়েছে। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে এসে বেকারত্বের হার প্রায় করোনার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার হিসাবটি মিলছে না। তৃতীয়ত, এত দিন ধরে বাংলাদেশের যে অর্জন, তার মৌলিক ভিত্তি এতটাই  দুর্বল যে করোনার মতো আঘাত এলে তা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

বিবিএস বলছে, করোনায় ৬৮ শতাংশ পরিবারে আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছে। এর মানে, সরকারের উন্নয়ন কৌশল তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা করতে পারছে না। চতুর্থত, এত দিন ধরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে সামাজিক সুরক্ষাজাল তৈরি করা হয়েছে, তা কাজ করেনি। সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সর্বজনীন করা দরকার।

বিবিএসের জরিপের ফলাফল বার্তা দিচ্ছে, কোনো অর্থনৈতিক আঘাত এলে সরকারের উন্নয়ন কৌশল কাজ করছে না। তাই বিদ্যমান ধারায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে না। বৈষম্য বাড়বে। সমাজের উঁচু স্তরের মানুষ সুবিধা পাবে। করোনায় অর্থনীতির ভঙ্গুরতার সেই চিত্রই উঠে এসেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0